কলম্বো: ভারতের ভাবী প্রধান বিচারপতি (CJI) বিচারপতি সূর্য কান্ত ভারত মহাসাগর রক্ষা এবং পরিবেশগত সহযোগিতার জন্য ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই সহযোগিতা কোনো “দান বা কূটনীতির বিষয় নয়, বরং বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন।”
শ্রীলঙ্কা সফরের তৃতীয় দিনে কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে বিচারপতি কান্ত দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক অঞ্চলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সমুদ্রপথ একসময় বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং ধারণার আদান-প্রদানের ধমনী ছিল।
বিচারপতি কান্ত জোর দিয়ে বলেন, “ভারত ও শ্রীলঙ্কার জন্য এখন সময় এসেছে পরিবেশগত সাংবিধানিকতার একটি আঞ্চলিক মডেলের পথিকৃৎ হওয়ার।” তিনি উভয় দেশকে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান যে, এই বছরের শেষের দিকে বা ২০২৬ সালের প্রথম দিকে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফরে যাবে। তিনি এই উদ্যোগকে দুই দেশের মধ্যে বিচারিক সংলাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
উভয় দেশের পরিবেশগত আন্তঃনির্ভরশীলতার কথা তুলে ধরে বিচারপতি কান্ত সতর্ক করেন, “পক প্রণালীর শান্ত ফিরোজা জলের নিচে পরিবেশগত দুর্বলতার চিহ্ন লুকিয়ে আছে— উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়া, উষ্ণ স্রোতের কারণে প্রবাল প্রাচীরের ব্লিচিং এবং মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকা যা দুই রাজধানীতে নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।”
তিনি উল্লেখ করেন, পক উপসাগর (Palk Bay) এবং মান্নার উপসাগর (Gulf of Mannar) একসময় জীববৈচিত্র্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, কিন্তু এখন অতিরিক্ত মাছ ধরা, বিধ্বংসী ট্রলিং এবং অনিয়ন্ত্রিত উপকূলীয় কার্যকলাপের কারণে চরম চাপে রয়েছে। ভারতীয় ট্রলার এবং শ্রীলঙ্কার জেলেদের মধ্যে বারবার সংঘর্ষকে তিনি “একটি গভীর পরিবেশগত ট্র্যাজেডির প্রতীক—যা ফুরিয়ে আসা সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা।” হিসাবে ব্যাখ্যা করেন।
বিচারপতি কান্ত উভয় দেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে যৌথ পর্যবেক্ষণ ও তথ্য আদান-প্রদানে যুক্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন এবং বলেন, পরিবেশগত ভারসাম্যের “নৈতিক ও সাংবিধানিক অভিভাবক” হিসেবে বিচার বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।





