“বুদ্ধি বাড়ছে কিন্তু বোধ কমছে!” আজকের প্রজন্মের অসুখ সারাতে কেন রবীন্দ্রনাথই একমাত্র পথ? জয়তী চক্রবর্তীর বিস্ফোরক দাবি

বর্তমান প্রজন্মের কাছে তথ্য আর প্রযুক্তির দৌলতে বুদ্ধির ধার বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু কোথাও গিয়ে কি কমে যাচ্ছে জীবনবোধ? একুশ শতকের এই মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আবারও কবিগুরুর প্রাসঙ্গিকতার কথা মনে করিয়ে দিলেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী জয়তী চক্রবর্তী। তাঁর মতে, আজকের ডিজিটাল যুগে মানুষের বুদ্ধিমত্তা বা ‘ইন্টেলিজেন্স’ বাড়লেও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে হৃদয়ের গভীরতায় বা ‘বোধে’। আর এই বোধের উত্তরণের জন্যই আজকের দিনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন।

সম্প্রতি একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বর্তমান প্রজন্মের মানসিক বিবর্তন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিল্পী। তিনি বলেন, আজকের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি স্মার্ট, অনেক দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং তথ্যের ভাণ্ডার তাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু জীবনের সূক্ষ্ম অনুভূতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা কিংবা অন্তরের প্রশান্তি— এই জায়গাগুলোতে এক ধরণের শূন্যতা তৈরি হচ্ছে।

জয়তী চক্রবর্তীর কথায়, “আমাদের বোধের যে উত্তরণ হওয়া প্রয়োজন, তা কেবল তথ্যের ভারে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দর্শনের স্পর্শ। রবীন্দ্রনাথ সেই মানুষ, যাঁর সৃষ্টি আমাদের অনুভব করতে শেখায়, ভাবতে শেখায়।” তিনি মনে করেন, যান্ত্রিক জীবনের চাপে মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়ছে, তখন রবীন্দ্রনাথের গান বা কবিতা শুধু বিনোদন নয়, বরং মানসিক নিরাময় হিসেবে কাজ করতে পারে।

শিল্পীর এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমতেই শোরগোল ফেলে দিয়েছে। অনেকেই তাঁর এই পর্যবেক্ষণকে সমর্থন করে বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রকৃত মানবিক বোধ হারিয়ে যাচ্ছে। জয়তী আরও যোগ করেন যে, পাঠ্যবই বা গতানুগতিক চর্চার বাইরে বেরিয়ে রবীন্দ্রনাথের জীবনদর্শনকে যদি তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে গেঁথে দেওয়া না যায়, তবে এই ‘বোধের অভাব’ ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক দূরত্ব তৈরি করবে।

একুশ শতকের জটিলতায় দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ কি তবে এক সঞ্জীবনী মন্ত্র? জয়তী চক্রবর্তীর এই স্পষ্টবক্তা সুলভ বিশ্লেষণ অন্তত সেই পথেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডেইলিয়ান্টের পাঠকদের জন্য এই বার্তা আজ অত্যন্ত জরুরি— বুদ্ধি থাকলেই কি সব হয়, নাকি বোধটাই আসল? শিল্পীর এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে বাঙালির মনে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy