বিহারে কি তবে এবার উত্তরপ্রদেশের ‘যোগী-মডেল’ ফিরে আসতে চলেছে? নব্য নিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর (Samrat Choudhary) একটি বিস্ফোরক মন্তব্য এবং তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুটি এনকাউন্টারের ঘটনা সেই জল্পনাকেই উসকে দিল। বিহার পুলিশকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “অপরাধীদের মালা পরাবেন না, বরং তাদের লাশে মালা দিন!”
মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই অ্যাকশন শুরু করেছে পুলিশ। ভাগলপুরের সুলতানগঞ্জ নগর পরিষদের আধিকারিক কৃষ্ণ ভূষণ কুমার হত্যাকাণ্ডের মূল পাণ্ডা রামধানী যাদব পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন। অন্য এক অভিযানে ছোটু যাদব নামে আর এক অভিযুক্তের দুই পায়ে গুলি লেগেছে। দুটি ক্ষেত্রেই পুলিশ দাবি করেছে, আত্মরক্ষার তাগিদেই তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে।
পুলিশের হাতে ‘খুলামকুলা’ স্বাধীনতা: বিহারে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘জঙ্গল রাজ’-এর তকমা মুছতে মরিয়া সম্রাট চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিহার আর অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য নয়। তাঁর কথায়, “পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের ‘হিরো’ বানিয়ে খাতির করার দিন শেষ। আইনের শাসন কায়েম করতে পুলিশ কঠোর হলে গোটা সমাজ তাদের পাশে দাঁড়াবে।”
মাঠে নেমে কাজ শুরু: পুলিশ সূত্রে খবর, সুলতানগঞ্জের ঘটনার পর অভিযুক্ত রামধানী যাদবকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে তিনি পুলিশের ওপর গুলি চালান। পাল্টা গুলিতেই মৃত্যু হয় তাঁর। অন্যদিকে, ছোটু যাদব পালানোর চেষ্টা করলে তাঁর পায়ে গুলি লাগে। এই দুই অভিযানেই পুলিশের বেশ কয়েকজন আধিকারিক আহত হয়েছেন।
স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ: প্রশাসনিক স্তরে সম্রাট চৌধুরীর এই কঠোর অবস্থান ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে সুলতানগঞ্জের আধিকারিক খুনের ঘটনায় সরকারি কর্মীদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, রামধানী যাদবের মৃত্যুর পর সেখানে স্বস্তির হাওয়া। বিহারের আমজনতার মতে, অরাজকতা রুখতে এমন ‘বোল্ড অ্যান্ড ব্লান্ট’ সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিল। অপরাধ দমনে নীতীশ কুমারের ‘সমাধান’ কৌশলের চেয়ে সম্রাটের এই ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ থিওরি অনেক বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।





