ভাঙড়ের চাঞ্চল্যকর বোমা বিস্ফোরণ মামলায় বড়সড় মোড়। বিস্ফোরণকাণ্ডে মূল ষড়যন্ত্রী হিসেবে অভিযুক্ত ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে ১৪ দিনের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল বিশেষ এনআইএ আদালত।
তদন্তকারীদের দাবি ও এনআইএ-র যুক্তি: শনিবার শওকত মোল্লাকে আদালতে পেশ করে এনআইএ। কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, ধৃতের কাছ থেকে একটি পেন-ড্রাইভ উদ্ধার হয়েছে, যা এই ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। এছাড়া অভিযুক্তদের সঙ্গে শওকতের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ করে। ঘটনার দিন অভিযুক্তদের সাথে তিনি ফোনে কথা বলে বিভিন্ন নির্দেশ দিচ্ছিলেন বলেও এনআইএ-র সন্দেহ। তদন্তের স্বার্থে এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের জন্য তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা প্রয়োজন বলে আদালতে সওয়াল করেন তদন্তকারীরা। এরই প্রেক্ষিতে আদালত ১৪ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছে।
প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি: অন্যদিকে, শওকত মোল্লার আইনজীবী সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি:
রাজনৈতিক চক্রান্ত: বিরোধী দলগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসিয়েছে।
দূরত্ব ও অবস্থান: ঘটনার সময় শওকত মোল্লা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নিজের বাড়িতে ছিলেন।
নামের অনুপস্থিতি: প্রাথমিক চার্জশিটে বা অভিযোগে শওকতের নাম ছিল না।
নিরাপত্তার যুক্তি: তিনি যেহেতু জেড-প্লাস (Z+) নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকেন, তাই প্রকাশ্যে থেকে এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হওয়া সম্ভব নয়।
তদন্তের পরবর্তী পর্যায়: শওকত মোল্লার মোবাইল ফোনটি ইতিমধ্যেই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পেন-ড্রাইভ এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা এখন পুরো চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে চাইছেন। আদালতের এই নির্দেশের পর আগামী দুই সপ্তাহ এনআইএ-র জেরা ও তথ্যানুসন্ধান মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





