পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি এখন রক্তে রাঙা। উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই এক ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারালেন দুই ভারতীয় নাবিক। একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে অতর্কিত ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথে।
সূত্রের খবর, পারস্য উপসাগর এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় ভারতের অন্তত ২৮টি পণ্যবাহী জাহাজ এখন মাঝ সমুদ্রে আটকে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ক্রমাগত বাড়তে থাকা এই অস্থিরতা ভারতীয় আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মৃত দুই ভারতীয় নাবিকের পরিবারে এখন শোকের ছায়া, অন্যদিকে আটকে থাকা জাহাজগুলোর কয়েকশ নাবিকের নিরাপত্তা নিয়ে ভারত সরকার ও বিদেশ মন্ত্রক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা পরিকল্পিত এবং এর নেপথ্যে কোনো নির্দিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী বা আঞ্চলিক সংঘাতের যোগসূত্র থাকতে পারে। ভারতীয় নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। আটকে পড়া ২৮টি জাহাজকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এখন মোদী সরকারের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। বাণিজ্যের ক্ষতি তো বটেই, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ নাবিকদের প্রাণের নিরাপত্তা। পারস্য উপসাগরের এই অস্থিরতা কি বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারেও আগুন লাগাবে? সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।