পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বৃহস্পতিবার দুই নেতার মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ হয়, যেখানে ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz)-তে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ও অবাধ যাতায়াত স্বাভাবিক করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
ফোনালাপের মূল নির্যাস: প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন এক্স (X) হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন যে, বন্ধু রাষ্ট্র ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই দেশই একমত হয়েছে যে, বিশ্বের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হলে তার প্রভাব সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে পড়বে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী? হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় বিশ্বের ‘অয়েল লাইফলাইন’। মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছাতে এই পথটিই একমাত্র ভরসা। সম্প্রতি এই অঞ্চলে জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ায় ভারত ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মোদীর কূটনৈতিক তৎপরতা:
ট্রাম্পের সাথে আলোচনা: এর আগে গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও একই বিষয়ে কথা বলেছিলেন মোদী।
অস্ট্রিয়ার সাথে বৈঠক: দিল্লিতে অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকারের সঙ্গে বৈঠকেও সমুদ্রপথে নিরাপদ যাতায়াতের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি।
বিদেশের সচিবের বার্তা: বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ জানিয়েছেন, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান চায় ভারত।
ফ্রান্সের মেগা পরিকল্পনা: প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে শুক্রবার (আগামীকাল) প্যারিসে একটি আন্তর্জাতিক ভিডিও কনফারেন্স আয়োজন করা হচ্ছে। ৪০টিরও বেশি দেশকে নিয়ে একটি ‘বহুপাক্ষিক ও প্রতিরক্ষামূলক মিশন’ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের।
বিশ্বের শক্তি সরবরাহকারী এই প্রধান জলপথকে সুরক্ষিত রাখতে মোদী-ম্যাক্রোঁ জোট যে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, তা এই ফোনালাপেই স্পষ্ট।





