মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে রণকৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হল হরমুজ প্রণালি। পারমাণবিক অস্ত্র বা অত্যাধুনিক মিসাইল প্রযুক্তির চেয়েও এই জলপথটিকেই বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘অদৃশ্য অস্ত্র’ হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। কেন মাত্র ২১ মাইল চওড়া এই প্রণালিটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে এত আতঙ্ক?
বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ইরান যদি কোনোভাবে এই পথটি অবরুদ্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া হয়ে যাবে, যার প্রভাব পড়বে সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতিতে।
ভৌগোলিক সুবিধায় সুবিধাজনক অবস্থানে ইরান
হরমুজ প্রণালির উত্তর উপকূলে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরানের। ফলে এই পথে যাতায়াতকারী প্রতিটি কার্গো জাহাজ এবং অয়েল ট্যাঙ্কারের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে পারে তেহরান। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় কোনো যুদ্ধের প্রয়োজন নেই; ইরান যদি কেবল এই পথে কয়েকটি মাইন পেতে রাখে বা ছোট স্পিডবোট দিয়ে মহড়া দেয়, তবেই বীমা কোম্পানিগুলো ওই পথে জাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানাবে। ফলাফল—বিশ্বজুড়ে জ্বালানি হাহাকার।
কেন এটি ইরানের তুরুপের তাস?
আমেরিকা ও পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান বারবার এই জলপথ বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছে।
সামরিক কৌশল: ইরান এখানে শত শত ছোটবড় মিসাইল ব্যাটারি এবং ড্রোন মোতায়েন করে রেখেছে।
ছায়া যুদ্ধ: বিশাল বিমানবাহী রণতরীর বদলে ছোট ছোট নৌযানের মাধ্যমে ‘গরিলা যুদ্ধ’ চালিয়ে পুরো নৌপথ অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তারা।





