দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটাতে এবার বড়সড় কূটনৈতিক চাল দিল ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সরাসরি হোয়াইট হাউসে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘Axios’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান চায় বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুনরায় সচল করতে এবং আমেরিকার সঙ্গে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির স্থায়ী অবসান ঘটাতে। তবে এই নতুন চুক্তিতে একটি বিশেষ কৌশল নিয়েছে ইরান—পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত জটিল আলোচনাকে পরবর্তী ধাপের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলপিজি গ্যাস সরবরাহ হয়। মার্কিন নৌবাহিনী এই পথটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ঘোষিত বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হোক অথবা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হোক। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে রাজি। প্রস্তাবের মূল শর্ত হলো—অবরোধ সরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
যদিও এই প্রস্তাবে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা সায় দেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, তাঁরা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা করবেন না। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি এর আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির জন্য তাঁর প্রধান শর্ত হলো—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ট্রাম্পের কথায়, “ওরা জানে চুক্তিতে কী থাকতে হবে। পারমাণবিক অস্ত্র না ছাড়লে বৈঠকের কোনও মানেই হয় না।” এখন দেখার, পাকিস্তানের মাধ্যমে আসা এই ‘পিস ডিল’ ট্রাম্প গ্রহণ করেন না কি ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ান।





