মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এবার বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ধসের হুঁশিয়ারি দিল ইরান। আমেরিকার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যদি আমেরিকা কোনোভাবে হরমুজ প্রণালী অবরোধ করার চেষ্টা করে, তবে তার ফল হবে মারাত্মক। শুধু হুঁশিয়ারি নয়, রীতিমতো গাণিতিক অঙ্ক কষে তেলের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করেছে ইরান।
কী এই হরমুজ প্রণালী আর কেনই বা এত গুরুত্ব? বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় এই সরু সামুদ্রিক পথ দিয়ে। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যদি পশ্চিমী দেশগুলো তাদের ওপর চাপ বাড়ায়, তবে তারা এই পথ বন্ধ করে দিতে পারে।
ইরানের সেই ভয়ঙ্কর ‘অঙ্ক’: ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ সামান্য বিঘ্নিত হলেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাবে।
দাম বৃদ্ধি: বর্তমান দামের তুলনায় তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রতি ব্যারেল ১৫০ থেকে ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অর্থনৈতিক ধস: এর ফলে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোর মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে এবং জ্বালানি সংকটে থমকে যেতে পারে জনজীবন।
আমেরিকাকে কড়া বার্তা: তেহরানের দাবি, আমেরিকা যদি মনে করে তারা শক্তি প্রয়োগ করে ইরানকে কোণঠাসা করবে, তবে ইরান তার ‘ভৌগোলিক অস্ত্র’ ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই এই জলপথ বন্ধ হয়, তবে ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে।
এখন প্রশ্ন হলো, ওয়াশিংটন কি ইরানের এই হুঁশিয়ারি আমলে নেবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রক্সি যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় কোনো বিপর্যয় ডেকে আনবে?





