বিশ্বজুড়ে যখন আর্থিক মন্দার কালো মেঘ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে, ঠিক তখনই উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হয়ে ধরা দিল ভারত। ২০২৬-এর সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) ৭.৮% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের এই রিপোর্ট সামনে আসতেই উচ্ছ্বসিত অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। উন্নত দেশগুলো যখন মন্থর গতির শিকার, তখন ভারতের এই উল্লম্ফন বিশ্বমঞ্চে দিল্লির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন ক্ষেত্র (Manufacturing) এবং পরিষেবা খাতের (Service Sector) অসামান্য সাফল্যের কারণেই এই ম্যাজিক ফিগার অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি এই সাফল্যে অনুঘটকের কাজ করেছে। বিশ্বব্যাংক থেকে শুরু করে আইএমএফ (IMF)—প্রত্যেকেই ভারতের এই অগ্রগতির প্রশংসা করেছে। অনিশ্চয়তার বাজারে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারত এখন ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে উঠে আসছে।
অর্থনীতিবিদদের দাবি, এই হার বজায় থাকলে ভারত খুব শীঘ্রই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে ওঠার লক্ষ্য পূরণ করবে। যদিও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এখনও চ্যালেঞ্জ, তবে ৭.৮% বৃদ্ধির হার প্রমাণ করে দিয়েছে যে ভারতীয় অর্থনীতির বুনিয়াদ অত্যন্ত শক্ত। শেয়ার বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে, যা আগামী দিনে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।