মর্মান্তিক বললেও হয়তো কম বলা হয়। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ঘটে যাওয়া এক হাড়হিম করা ঘটনা ফের একবার আমাদের সমাজের অন্ধকার দিকটিকে সামনে নিয়ে এল। বেশ কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর এক তরুণীর দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। কিন্তু সেই দেহটি এতটাই পচেগলে গিয়েছিল যে পরিবারের মানুষের পক্ষেও চেনা অসম্ভব ছিল। শেষ পর্যন্ত পায়ের এক জোড়া মোজা দেখে নিজের নাড়িছেঁড়া ধনকে শনাক্ত করলেন এক অসহায় বাবা।
ইন্দোরের একটি নির্জন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া এই দেহকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রহস্যময় অন্তর্ধান ও উদ্ধার
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত তরুণী গত কয়েকদিন আগে কাজে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল। এরপর শনিবার সকালে স্থানীয়রা একটি ঝোপের আড়ালে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মোজাই যখন পরিচয়ের মাধ্যম
দেহে পচন ধরে যাওয়ায় চেহারা দেখে শনাক্ত করা ছিল কার্যত অসম্ভব। পুলিশ যখন তরুণীর বাবাকে দেহটি দেখান, তখন তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। দেহের অবস্থা দেখে তিনি প্রথমে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু মেয়ের পায়ে থাকা একটি বিশেষ নকশার মোজা দেখেই তাঁর সন্দেহ দূর হয়। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি পুলিশকে জানান, এটিই তাঁর মেয়ের দেহ।
তদন্তে পুলিশ
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, তরুণীকে অন্য কোথাও খুন করে এখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
-
ধর্ষণ না কি শত্রুতা? পুলিশ সব কটি দিক খতিয়ে দেখছে।
-
সিসিটিভি ফুটেজ: ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে যাতে অপরাধীদের হদিস মেলে।
-
ফরেনসিক রিপোর্ট: মৃত্যুর সময় এবং ধরন জানতে ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারীরা।
অফিসারদের বক্তব্য: “আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। দেহের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল, তবে ওই মোজাটিই আমাদের শনাক্তকরণে প্রাথমিক সাহায্য করেছে। খুব দ্রুতই অপরাধীরা ধরা পড়বে।”