রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বা ‘ইরান যুদ্ধ’ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে চরম খাদ্য সংকটের অশনি সংকেত দিল বিশ্বব্যাংক (World Bank)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ (Commodity Markets Outlook) রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে চার কোটি (৪৫ মিলিয়ন) মানুষ তীব্র অনাহার ও খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারেন।
কেন এই ভয়ংকর পরিস্থিতি? বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই যুদ্ধের প্রভাবে মূলত তিনটি স্তরে আঘাত আসতে চলেছে:
জ্বালানি তেলের দাম: হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সংলগ্ন অস্থিরতার কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম প্রায় ২৪% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
সারের সংকট: বিশ্ববাজারে সারের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য দিয়ে সরবরাহ করা হয়। সারের দাম লাফিয়ে বাড়লে বিঘ্নিত হবে কৃষিকাজ, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে খাদ্যশস্যের উৎপাদনে।
খাদ্যশস্যের মূল্যবৃদ্ধি: পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং উৎপাদনে ঘাটতির ফলে চাল, গম ও ভোজ্য তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অনাহারের দ্বারপ্রান্তে সাড়ে ৪ কোটি মানুষ: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্বেগ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা উন্নয়নশীল ও গরিব দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে আফ্রিকা এবং এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ২০১৫ সালের পর বিশ্ব সবথেকে বড় খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হতে পারে।
ভারতের ওপর প্রভাব: যদিও ভারতের খাদ্যভাণ্ডার যথেষ্ট শক্তিশালী, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পরিবহন খরচ ও সারের দাম বাড়তে পারে। যার ফলশ্রুতিতে আমজনতার রান্নাঘরে টান পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ: বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দারমিত গিল জানিয়েছেন, “যুদ্ধ মানেই উন্নয়নের চাকা উল্টো দিকে ঘোরা।” তিনি বিশ্বনেতাদের দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং মানবিক সহায়তার জন্য তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।





