নদিয়া জেলায় এক স্থানীয় বিজেপি নেতা, যিনি ২০১৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিধায়ক হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন, তিনি শাসকদলে যোগ দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন হাঁসখালির বিজেপি নেতা নির্মল ঘোষ।
নির্মল ঘোষ ছিলেন কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছয় জনের মধ্যে একজন। ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সত্যজিৎ বিশ্বাস খুন হন। এই ঘটনায় ঘোষকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল, যদিও পরে আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস করে দেয়।
তৃণমূলের ব্যাখ্যা, বিধবার নীরবতা: মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এবং রানাঘাট (দক্ষিণ)-এর বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারীর হাত ধরে নির্মল ঘোষ শাসকদলে যোগদান করেন। উল্লেখ্য, জয়প্রকাশ মজুমদার ও মুকুটমণি অধিকারী দুজনেই আগে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জয়প্রকাশ মজুমদার ঘোষের যোগদানকে সমর্থন করে দাবি করেছেন যে ২০১৯ সালে সত্যজিৎ বিশ্বাস হত্যা মামলায় তাঁর গ্রেফতারি ছিল স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের ষড়যন্ত্রের ফল।
তবে এই দলবদলের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নিহত বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী রূপালী বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন। প্রসঙ্গত, রূপালী বিশ্বাস ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে রানাঘাট থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু বিজেপির জগন্নাথ সরকারের কাছে পরাজিত হন।
দলের অন্দরে ক্ষোভ ও বিজেপির আক্রমণ: প্রকাশ্যে তৃণমূলের কেউ এ বিষয়ে মুখ না খুললেও, নদীয়ার জেলা নেতৃত্বের একটি অংশ স্বীকার করেছে যে নির্মল ঘোষের যোগদান দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না, কিন্তু জেলার বহু কর্মী এই ঘটনায় অখুশি।”
অন্যদিকে, রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার এই ঘটনাকে তৃণমূলের ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের’ প্রমাণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “নদিয়ার শাসকদলের কর্মীদের এখন উপলব্ধি করা উচিত, তাদের দলীয় নেতৃত্ব আসলে তাদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে।”