রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁজ দিন দিন আরও বাড়াচ্ছে নতুন সরকার। এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের মাঠ তথা বিধানসভা কেন্দ্র ‘ভবানীপুর’-কে নিশানা করে তীব্র রাজনৈতিক তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, বিগত বছরগুলিতে রাজ্যের হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও ভবানীপুরের সাধারণ মানুষ প্রকৃত বিধায়ক বা জনপ্রতিনিধির কাজ কী, তা দেখার সুযোগই পাননি।
সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্রের অনুন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে এনে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিধায়ক কেমন হয়, বিধায়কের আসল কাজ কী এবং এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে কীভাবে পাশে দাঁড়াতে হয়— এতদিন ভবানীপুরের মানুষ তা জানতেনই না! কারণ যিনি ওখানকার জনপ্রতিনিধি ছিলেন, তাঁর কাছে সাধারণ মানুষের পৌঁছানোর কোনো উপায় ছিল না।” শুভেন্দুর দাবি, ভিভিআইপি কেন্দ্র তকমা পেলেও সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলি বছরের পর বছর ধরে উপেক্ষিতই থেকে গেছে।
রাজনৈতিক মহলে ভবানীপুর কেন্দ্রটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আবেগের জায়গা হিসেবেই পরিচিত। নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর এই কেন্দ্র থেকেই উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী পদ টিকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। ফলে, নতুন জমানায় সেই ভবানীপুরকেই সরাসরি নিশানা করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক চাল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মুখ্যমন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজ্যের প্রতিটি কোণায় যাতে বিধায়কেরা সক্রিয়ভাবে কাজ করেন এবং সাধারণ মানুষের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন, তা নিশ্চিত করবে নতুন প্রশাসন। রাজ্যে একদিকে যখন কাটমানি ও নারী নির্যাতনের তদন্তে একের পর এক বড়সড় প্রশাসনিক অ্যাকশন শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য লোকসভা বা পরবর্তী উপনির্বাচনের আগে বাংলার রাজনৈতিক পারদকে যে আরও কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।





