বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের অন্দরে যে ভাঙনের শুরু হয়েছিল, তা কি এবার লোকসভাতেও পৌঁছাল? সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর এই ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান কি বড় কোনো ফাটলের পূর্বাভাস?
সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের একটি পোস্টকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এবং নেত্রীর কার্যপদ্ধতি নিয়ে পরোক্ষভাবে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই সাংসদের এমন পোস্ট তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাকলির এই পোস্ট কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং দলের ভেতরে চলা দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ।
তৃণমূলে কি ভাঙনের সুর? বিধানসভার ফলের পর থেকেই দেখা গিয়েছে দলের একাংশ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এবার সেই একই সুর লোকসভার সাংসদদের গলাতেও শোনা যাচ্ছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে কি তাহলে লোকসভায় নতুন কোনো ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী’ তৈরি হচ্ছে? এই জল্পনা এখন রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে।
দলীয় নেতৃত্বের তরফে এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে যেভাবে একের পর এক প্রথম সারির নেতা দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন, তা আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে শাসকদলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অন্দরে কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জোর চর্চা।





