বিধানসভা বা পরিষদীয় দলের পর এবার কি তৃণমূলের সংসদীয় দলেও ভাঙনের আশঙ্কা? রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে চলা এই গুঞ্জন যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই তড়িঘড়ি দিল্লি পাড়ি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই হঠাৎ দিল্লি সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
দিল্লি সফরের নেপথ্যে কী? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভায় পরিষদীয় দল সামলানোর চেয়ে লোকসভায় সাংসদদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে, তাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করতেই কি এই সফর? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি যাত্রা কি সংসদীয় দলের ফাটল আটকানোর শেষ চেষ্টা, নাকি জাতীয় রাজনীতিতে কোনো নতুন কৌশলী চাল? তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।
জল্পনার কেন্দ্রে সংসদীয় দল: তৃণমূলের অন্দরে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, দলের ভেতরেই একটি বড় অংশ বর্তমান নেতৃত্বের ওপর অসন্তুষ্ট। লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান সাংসদ সংখ্যার নিরিখে বড় কোনো বিদ্রোহ তৈরি হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে দিল্লির রাজনীতির অন্দরে। বিশেষ করে, লোকসভায় দলত্যাগ বিরোধী আইন এবং সাংসদদের অন্য কোনো গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে জল্পনা চলছে, তা আটকাতেই দিল্লি যাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিষেকের পরীক্ষা: তৃণমূলের অন্দরে যখন ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে, তখন অভিষেকের এই সফরকে অনেকেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ হিসেবে দেখছেন। দিল্লি পৌঁছে তিনি কার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সেখান থেকে কী বার্তা নিয়ে ফিরে আসেন, তার ওপরই নির্ভর করছে তৃণমূলের সংসদীয় দলের ভবিষ্যৎ।
সব মিলিয়ে দিল্লির রাজনীতির আঙিনায় এখন তৃণমূলের এই টানাপোড়েনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর কি দলকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে, নাকি নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হবে? উত্তরের অপেক্ষায় বাংলার রাজনীতি।





