বিধানসভায় পরিষদীয় দলের চিঠিতে স্বাক্ষর সংক্রান্ত জালিয়াতির মামলায় এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করল সিআইডি। জানা গিয়েছে, সোমবার তাঁকে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার শান্তিনিকেতনে তাঁর বাড়িতে সিআইডি আধিকারিকদের নোটিশ দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিষেকের কঠোর অবস্থান: সিআইডি-র তলব ও তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বেলেঘাটা ও সোনারপুরের কর্মসূচিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এতদিন ইডি, সিবিআই ছিল, তার সঙ্গে এখন পুলিশ ও পুরসভা যুক্ত হয়েছে। কিন্তু আমরা অন্য ধাতুতে গড়া। ক্ষমতা থাকলে গ্রেফতার করে নিয়ে যাক! আমি তো পালিয়ে যাচ্ছি না।”
মামলার প্রেক্ষাপট: ভোট পরবর্তী সময়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা ও মুখ্যসচেতক নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। তৃণমূলের তরফে বিধানসভায় পাঠানো চিঠিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর ও পদ্ধতিগত ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ ওঠে। ওই চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই ছিল বলে জানা যায়। সেই স্বাক্ষর জালিয়াতি বা অসঙ্গতির তদন্তেই সিআইডি এই তৎপরতা শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: ইতিমধ্যেই এই মামলার সূত্রে সিআইডি নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের মতো দলীয় বিধায়কদের বাড়িতেও তদন্তের প্রয়োজনে যোগাযোগ করেছে। এবার দলের সর্বোচ্চ স্তরের নেতাকে তলব করায় রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই মামলাটি কেবল প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কেন্দ্র ও রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে তাঁদের দলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে।
সোমবার ভবানী ভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজিরা দেবেন কি না, এবং দিলে তা রাজনৈতিক ও আইনি ক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলবে, এখন সেই দিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।





