২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোতেই বাংলার রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। তবে লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় ধাক্কা খাওয়ার পর এবার তাঁর লক্ষ্য আসন্ন পুরসভা এবং পঞ্চায়েত নির্বাচন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দুই ভোটই হতে চলেছে মমতার প্রত্যাবর্তনের ‘লিটমাস টেস্ট’।
বিধানসভা নির্বাচনে অনেক আসনেই আশানুরূপ ফল করতে পারেনি শাসক দল। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলে বিজেপির দাপট তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে গ্রাম এবং শহর— দুই স্তরেই মানুষের সমর্থন ফিরে পাওয়া তৃণমূলের জন্য এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, বিধানসভা হারের পর কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করাই এখন মমতার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
পুরসভা ভোটে শহর দখলের লড়াই: রাজ্যের একাধিক পুরসভায় এই মুহূর্তে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে রয়েছে। বিধানসভার ফলের রেশ যদি পুরভোটে পড়ে, তবে কলকাতার বাইরে অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও তৃণমূলকে কড়া টক্করের মুখে পড়তে হতে পারে। মধ্যবিত্ত ভোটারদের মন পেতে তাই এখন থেকেই নতুন রণকৌশল সাজাচ্ছে কালীঘাট।
পঞ্চায়েতে কি ফিরবে হারানো জমি? গ্রামীণ বাংলার নাড়ি নক্ষত্র মমতার নখদর্পণে। কিন্তু সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দেখা গেছে, গ্রামের ভোটারদের একটি বড় অংশ তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়েছেন। পঞ্চায়েত ভোটে সেই জনসমর্থন পুনরুদ্ধার করতে পারলে ২০২৯-এর লড়াই সহজ হবে বলে মনে করছে ঘাসফুল শিবির।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি পারবেন তাঁর চেনা ছকে ফিরে এসে বিরোধীদের মাত দিতে? নাকি বিধানসভার মতোই এখানেও জমি ধরে রাখতে হিমশিম খাবে তৃণমূল? সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





