বিদ্যুৎ আছে কিন্তু জ্বালানি নেই! গরমে পুড়ছে গ্রাম বাংলা, ভয়াবহ লোডশেডিং নিয়ে কী জানাল বিদ্যুৎ বোর্ড?

একদিকে তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশের কোথাও কোথাও দিনে সাত ঘণ্টা তো কোথাও ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি এখন চরমে।

জনজীবনের করুণ চিত্র: মেহেরপুরের ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান লিটন বিবিসি বাংলাকে জানান, রাত থেকে ভোর পর্যন্ত অন্তত চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। তাঁর কথায়, “যেদিন কম সেদিনও সাত ঘণ্টা লোডশেডিং হয়, আর যেদিন বেশি সেদিন ১০ ঘণ্টাও পার হয়ে যায়।” একই চিত্র লালমনিরহাট, চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহেও। তীব্র গরমে ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জন্য।

পরিসংখ্যান কী বলছে? পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পিক আওয়ারে লোডশেডিং ১৮০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এপ্রিলের শুরুতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও তুঙ্গে উঠেছে। কিন্তু সেই তুলনায় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

কেন এই বিদ্যুৎ সংকট? ৪টি প্রধান কারণ:

  • জ্বালানি সংকট: ডলার সংকটের কারণে কয়লা ও ফার্নেস অয়েল আমদানিতে টান পড়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান বাধা।

  • মেশিন বিকল: কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেশিন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

  • গ্যাস সরবরাহ হ্রাস: বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

  • আমদানি নির্ভরতা: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানিতে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া সরকারকে চাপে ফেলেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে কী বলা হচ্ছে? বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। সরকার দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এপ্রিল থেকে জুনের এই প্রচণ্ড গরমে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy