২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তন নিশ্চিত হওয়ার পরও নিজের অবস্থানে অনড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি নিজে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করবেন না। বরং রাজভবন বা কেন্দ্র চাইলে তাঁকে ‘বরখাস্ত’ করুক—এই নজিরবিহীন জেদ বজায় রেখে রাজ্যে এক গভীর সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
বৈঠকের নির্যাস: ‘আমি পদত্যাগ করব না’
বুধবার বিকেলের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তৃণমূলের ৮০ জন জয়ী বিধায়কের মধ্যে ৬৯ জন উপস্থিত ছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সির উপস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানান, “আমি নিজে গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। ইতিহাস মনে রাখুক। ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই সেই দিনটি একটি কালো দিন হিসেবে রেকর্ড থাকুক।”
প্রতিবাদের নতুন হাতিয়ার ‘অসহযোগ’?
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এবারের নির্বাচনে প্রায় ১০০টি আসনে জনমত লুঠ করা হয়েছে। নৈতিকভাবে তৃণমূলই জিতেছে বলে দাবি করে মমতা এই ইস্তফা না দেওয়াকে একটি ‘রাজনৈতিক প্রতিবাদ’ হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের জনরায় জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধেই আমাদের নিজস্ব ধরনের এই প্রতিবাদ।”
রাজভবনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পরাজয় স্বীকার করে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই রীতি ভাঙার ডাক দেওয়ায় তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা। সংবিধান অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল (এক্ষেত্রে বিজেপি) সরকার গঠনের দাবি জানালে রাজ্যপাল বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে পদ ছাড়তে বলতে পারেন। মমতা যদি তাতে সাড়া না দেন, তবে রাজ্যপাল তাঁকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন। আর মমতা ঠিক সেই মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কালীঘাটের বৈঠকে অনুপস্থিত ১১ বিধায়ক
৮০ জন জয়ী বিধায়কের মধ্যে এদিনের বৈঠকে ১১ জন অনুপস্থিত থাকায় নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। পরাজয়ের আবহে দল ভাঙানোর আশঙ্কা যখন প্রবল, তখন এই অনুপস্থিতি তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। তবে বৈঠকের মূল সুর ছিল একটাই—বিজেপি সরকারকে সহজে জমি ছাড়বে না তৃণমূল।
পরাজয়ের পর যেখানে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেখানে মমতার এই অনড় মনোভাব বাংলার রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য এই সংঘাতের প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট থাকবে আমাদের নজরে।





