২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মহারণ কি তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই শুরু হয়ে গেল? শুক্রবার বারুইপুরের পূর্বের জনসভা থেকে সেই ইঙ্গিতই দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালে জেলার ৩১টি আসনের মধ্যে ৩০টি জিতলেও, কাঁটা হয়ে বিঁধে ছিল ভাঙড়। এবার সেই ভাঙড় উদ্ধার করে ‘৩১-এ ৩১’ করার ডাক দিলেন তৃণমূলের সেনাপতি।
জন্মভূমি কালীঘাট, কর্মভূমি দক্ষিণ ২৪ পরগনা
এ দিন ফুলতলা সাগরসঙ্ঘের মাঠ থেকে অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, কেন তিনি প্রচারের শুরুতেই এই জেলাকে বেছে নিলেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “কালীঘাট আমার জন্মভূমি হলেও, দক্ষিণ ২৪ পরগনা আমার কর্মভূমি। আপনাদের আশীর্বাদ নিয়েই এবারের লড়াই শুরু করছি।” গত তিনবার মমতাকে ক্ষমতায় আনার কারিগর এই জেলাকে এবার আরও বড় টার্গেট দিলেন তিনি। তাঁর সাফ নির্দেশ— প্রতিটি আসনে জয়ের ব্যবধান যেন অন্তত ৫০ হাজার হয়।
মোদী-শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ: “রাজনীতি ছেড়ে দেবো”
কিছুদিন আগেই বাংলায় এসে অমিত শাহ ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যে ডাক দিয়েছিলেন, এদিন তার পাল্টা তোপ দাগেন অভিষেক।
-
চাকরি নিয়ে আক্রমণ: মোদী বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অভিষেকের চ্যালেঞ্জ— “বিজেপি যদি প্রমাণ করতে পারে কোনো একটি বিধানসভা কেন্দ্রেও ৫ হাজার চাকরি তারা দিয়েছে, তবে আমি আজই রাজনীতি ছেড়ে দেবো।”
-
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: শাহের ‘প্রকল্প বন্ধ হবে না’ দাবির প্রেক্ষিতে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ— বিজেপি শাসিত একটি রাজ্যেও যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো ১ হাজার টাকা দেওয়া হয়, তবে তিনি দল ছেড়ে দেবেন।
শুভেন্দুর ‘বাংলাদেশ’ মন্তব্য নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক
এদিন জনসভার মঞ্চে একটি চাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপ বাজিয়ে শোনান অভিষেক। সেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে শোনা গিয়েছে, “বাংলাদেশে ইউনূসের সরকার ভালো চলছে।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অভিষেক বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যে নৃশংসতা চলছে, শুভেন্দু বাবু কি তাকেই সার্টিফিকেট দিচ্ছেন?” পাশাপাশি বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজেরও একটি অডিও শুনিয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা করেন তিনি।
পাখির চোখ ভাঙড়
২০২১-এ ভাঙড় আসনটি গিয়েছিল ISF-এর দখলে। অভিষেক এদিন স্পষ্ট জানান, “২১-এ আমরা ২১৪টি আসন জিতেছিলাম। এবার একটি হলেও বাড়বে, আর সেই বাড়তি আসনটি যেন ভাঙড় হয়।” ভাঙড় পুনরুদ্ধারে তিনি প্রয়োজনে বারবার সেখানে জনসভা করতে রাজি বলেও কর্মীদের চাঙ্গা করেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেকের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বুঝিয়ে দিল ২০২৬-এর লড়াই হতে চলেছে অত্যন্ত কড়া এবং তৃণমূল এবার এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ।