দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল ভূমিকম্প! সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল কার্যত উল্টে দিয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্দরমহলের সমীকরণ। একদিকে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়, অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে এম. কে. স্ট্যালিনের ডিএমকে-র পতন ঘটিয়ে অভিনেতা বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজগম’ (টিভিকে)-র অভাবনীয় উত্থান। এই দুই রাজ্যের ফলের প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে জাতীয় রাজনীতিতে।
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকে-র জোটসঙ্গী হিসেবে লড়াই করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু নির্বাচনের ফল বেরোতেই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। ডিএমকে-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে যোগ দেয় হাত শিবির। পুরস্কার হিসেবে কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে রাজ্যসভার আসন। এই ঘটনায় ডিএমকে নেতৃত্ব কংগ্রেসকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে দেগে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। শোনা যাচ্ছে, কংগ্রেস এবার টিভিকে-র সঙ্গে সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে চাইছে। আগামী ৮ জুন দিল্লিতে ডাকা হয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। রাজনৈতিক মহলের খবর, কংগ্রেস এই বৈঠকেই বিজয়ের দলকে জোটে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছে।
এদিকে, এই খবর চাউর হতেই ডিএমকে স্পষ্ট ঘোষণা করেছে যে, তারা ৮ জুনের ওই বৈঠকে যোগ দেবে না। ডিএমকে মুখপাত্র টিকেএস এলানগোভান সাফ জানিয়েছেন, কংগ্রেসের বিশ্বাসভঙ্গের কারণে দলের কর্মীরা চরম আঘাত পেয়েছেন, তাই তাদের আবেগকে সম্মান জানিয়েই এই বয়কট।
শুধু ডিএমকে নয়, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্দরে চাপ বাড়ছে উত্তর থেকে পূর্ব পর্যন্ত। লোকসভা ভোটের পর থেকেই আম আদমি পার্টি জোট থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। অন্যদিকে, বাংলায় তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যেকার সাম্প্রতিক টানাপোড়েন জাতীয় স্তরের বিরোধী ঐক্যকে আরও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এমতাবস্থায় ৮ জুনের বৈঠকে কংগ্রেস কোন কৌশলে বিরোধী শিবিরকে একজোট রাখে, সেদিকেই তাকিয়ে দেশ।





