বিজয়ের মাস্টারস্ট্রোক! ১৪ দিনেই বন্ধ হচ্ছে ৭ শতাধিক মদের দোকান, স্বস্তির নিঃশ্বাস তামিলনাড়ুতে

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরেই রাজ্যের চিত্র বদলে ফেলতে তৎপর সি. জোসেফ বিজয়। মাদকমুক্ত রাজ্য গড়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে হাঁটা শুরু করলেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই একটি অত্যন্ত সাহসী এবং জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত সমস্ত মদের দোকান বন্ধ করে দিতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যজুড়ে বর্তমানে তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশনের (টাসম্যাক) অধীনে মোট ৪,৭৬৫টি খুচরো মদের দোকান পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি টাসম্যাক কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে একটি সমীক্ষা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, রাজ্যের মোট মদের দোকানের মধ্যে ৭১৭টি দোকান এমন সব সংবেদনশীল এলাকার ৫০০ মিটারের ভেতরে অবস্থিত, যা জনজীবনে প্রভাব ফেলে।

উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর শাসক দলের আয়ের একটি বড় অংশ আসে এই টাসম্যাক পরিচালিত মদের দোকানগুলি থেকে। দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠন এই দোকানগুলি বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিল। একইসঙ্গে, টাসম্যাক অতীতে নানা বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে। গত বছর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছিল।

সি. জোসেফ বিজয় তাঁর দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’-এর নির্বাচনী ইশতেহারে মাদকমুক্ত তামিলনাড়ু গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্তটি সেই লক্ষ্যেই একটি প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের সাধারণ মানুষ এবং অভিভাবক মহল। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী এবং ধর্মপ্রাণ মানুষজন বলছেন, এই পদক্ষেপের ফলে সামাজিক পরিবেশ উন্নত হবে এবং অপরাধের প্রবণতা কমবে।

মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই ৭১৭টি দোকান বন্ধ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রাজ্যের রাজস্বের কথা চিন্তা না করে মানুষের ভালো থাকাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়-এর এই পদক্ষেপ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। রাজ্য জুড়ে এখন জোর আলোচনা চলছে, এই সিদ্ধান্তের পর ভবিষ্যতে মাদকমুক্ত রাজ্য গড়ার লক্ষ্যে আর কী কী বড় ঘোষণা করতে চলেছেন সি. বিজয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy