২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের আলোচনায় সিপিআইএম-এর প্রবীণ নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বামফ্রন্টের প্রার্থী তালিকায় যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল—একজন লড়াকু বাম নেতার ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ ঠিক কত? সাম্প্রতিক নির্বাচনী হলফনামা এবং তথ্যের ভিত্তিতে উঠে আসছে তাঁর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির খতিয়ান।
মোট সম্পত্তির পরিমাণ কত? নির্বাচনী হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকার বেশি। এর মধ্যে তাঁর নিজের এবং স্ত্রীর সম্পত্তির সম্মিলিত হিসাব রয়েছে। একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে তাঁর বার্ষিক আয় এবং বিনিয়োগই এই বিপুল সম্পত্তির প্রধান উৎস বলে জানা গেছে।
অস্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান: বিকাশবাবুর নামে ব্যাঙ্কে জমা, শেয়ার বাজার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকা রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী:
ব্যাঙ্ক আমানত ও বিনিয়োগ: তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে বড় অঙ্কের আমানত রয়েছে।
গাড়ি: তাঁর সংগ্রহে রয়েছে হুন্ডাই সান্তা ফে (Hyundai Santa Fe) এবং হুন্ডাই আই-১০-এর মতো গাড়ি।
স্বর্ণালঙ্কার: তাঁর হলফনামায় স্বর্ণালঙ্কারের উল্লেখ থাকলেও তা অন্যান্য অনেক প্রার্থীর তুলনায় পরিমিত।
স্থাবর সম্পত্তি ও আবাসন: বিকাশরঞ্জনের স্থাবর সম্পত্তির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তাঁর আবাসন ও জমি। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর নামে দামী ফ্ল্যাট ও অকৃষি জমি রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
দায় বা ঋণ: সম্পত্তির পাশাপাশি বিকাশরঞ্জনের ঋণের বোঝাও নেহাত কম নয়। তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার বেশি দায় বা ঋণ রয়েছে তাঁর ওপর।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বামেদের একসময়ের ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য পেশায় আইনজীবী হওয়ায় তাঁর আয়ের উৎস নিয়ে বিরোধীরা মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন তোলে। তবে বাম শিবিরের দাবি, দীর্ঘ আইনি কেরিয়ার এবং সততার সঙ্গেই তিনি এই সম্পদ অর্জন করেছেন। ২০২৬-এর নির্বাচনে যাদবপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন এবং তাঁর এই ‘কোটিপতি’ ইমেজ ভোটারদের মনে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





