এস এস রাজামৌলি-র ‘বাহুবলী’-র সাফল্যের সঙ্গে ‘প্যান ইন্ডিয়া সুপারস্টার’ প্রভাস বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন। ‘মির্চি’, ‘মিস্টার পারফেক্ট’ এবং ‘ডার্লিং’-এর মতো জনপ্রিয় ছবির জন্য তিনি তেলেগুভাষী রাজ্যে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন, তবে ‘বাহুবলী’ তাঁকে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেয়।
সম্প্রতি, সিনেমাটোগ্রাফার কে কে সেন্থিল ‘টর্চ বিয়ারারস পডকাস্ট’-এ ফাঁস করেছেন যে, কীভাবে প্রভাসের বিপুল ফ্যান ফলোয়িং ছবির শ্যুটিংয়ের ক্ষেত্রে অসাধ্য পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।
সেন্থিল মনে করে বলেন, “এটা অবিশ্বাস্য ছিল। হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। আমরা ভাবিনি যে এমন একটি ছবির জন্য এত লোক আসবে। আমরা ক্যামেরা যেখানেই রাখতাম না কেন, তাদের সরানোর চেষ্টা সত্ত্বেও লোকেরা ফ্রেমে চলে আসত। আমাদের প্যাক আপ করতে হয়েছিল এবং পরের দিন আবার চেষ্টা করতে হয়েছিল। কিন্তু তখনও লোক এসেছিল; শ্যুটিং করা অসম্ভব ছিল।”
শ্যুটিংয়ের প্রথম দিনে এস এস রাজামৌলি কুর্নুলে বাইরে প্রভাস এবং রানা দগ্গুবাটি-কে নিয়ে একটি দৃশ্যের শ্যুটিং শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি দ্রুত উপলব্ধি করেন যে প্রভাসের অগণিত অনুরাগীর ভিড়ের কারণে বাইরে শ্যুটিং করা অসম্ভব। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে ক্যামেরার ফ্রেম থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া কঠিন ছিল।
কুর্নুলের ফ্যানদের এই উন্মাদনার কারণে পরিচালক রাজামৌলি তাঁর মহাকাব্যিক ‘বাহুবলী’ ছবিগুলির শ্যুটিং ইনডোরে হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটি-তে স্থানান্তরিত করতে বাধ্য হন।
সেন্থিল আরও জানান, “হ্যাঁ, প্রভাস একজন বড় তারকা ছিলেন, তবে এটি ‘বাহুবলী’ মুক্তি পাওয়ার আগের কথা। ‘বাহুবলী’-র পরে, তিনি দশ গুণ বড় তারকা হয়ে গেছেন। এখন, ভারত তো ছেড়েই দিন, আমরা জাপানেও তাঁর সাথে বাইরে শ্যুটিং করতে পারি না।”
দুর্ভাগ্যবশত, শ্যুটিংয়ের প্রথম দিনে যে দৃশ্যটি শ্যুট করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তার একটি অংশও চূড়ান্ত ছবিতে ব্যবহার করা হয়নি। তাই পুরো দৃশ্যটি ক্রুকে আবার ইনডোরে শ্যুট করতে হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, প্রভাস অভিনীত ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ (২০১৫) এবং ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’ (২০১৭) সিনেমা দুটি ‘বাহুবলী: দ্য এপিক’ নামে ৩১ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে একসঙ্গে দেখানো হবে। এই দুটি ছবিতে প্রভাস অমরেন্দ্র বাহুবলী এবং মহেন্দ্র বাহুবলী-র দ্বৈত ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন রানা, অনুষ্কা শেঠি, তামান্না ভাটিয়া, সত্যরাজ এবং রম্যা কৃষ্ণন।





