ভোটের ময়দানে বাগযুদ্ধ এবার শালীনতার সীমা ছাড়াচ্ছে! বিজেপি নেতাদের একাংশের করা ‘বার্নল’ (Burnol) সংক্রান্ত মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক নির্বাচনী সভা থেকে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তুললেন, বিজেপি নেতাদের এমন আপত্তিকর ভাষার বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
বিতর্কের মূলে কী? সম্প্রতি বিজেপির জনসভাগুলো থেকে বিরোধী নেতাদের উদ্দেশে ‘জ্বালা মেটাতে বার্নল লাগানো’র মতো বিতর্কিত মন্তব্য শোনা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গ টেনেই মুখ্যমন্ত্রী আজ সরব হন:
ভাষার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন: মমতা বলেন, “বলছে বার্নল লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেবে! এ কেমন মুখের ভাষা? রাজনীতিতে কি সৌজন্যতা বলে কিছু নেই?”
কমিশনকে নিশানা: মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপি নেতারা উস্কানিমূলক এবং কুরুচিকর মন্তব্য করলেও নির্বাচন কমিশন (EC) কোনো সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিজেপি যা খুশি বলছে, আর আমাদের সামান্য কিছুতেই শোকজ করা হচ্ছে? কমিশন কেন একচোখা আচরণ করছে?”
আচরণবিধি লঙ্ঘন: তৃণমূলের দাবি, এই ধরণের মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী নয়, বরং এটি সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের পারদ: ভোটের আবহে বিজেপি এবং তৃণমূল—উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ আনছে। শুভেন্দু অধিকারী বা মিঠুন চক্রবর্তীর মতো বিজেপি নেতাদের আক্রমণাত্মক ঢঙের জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘কমিশনকে তোপ’ আদতে দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার এক কৌশল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ বক্তব্য: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, ভয় দেখিয়ে বা অশালীন মন্তব্য করে বাংলাকে জেতা যাবে না। সাধারণ মানুষ এই অপসংস্কৃতির জবাব ব্যালট বক্সেই দেবেন।
বিজেপির এই ‘বার্নল’ মন্তব্য কি সত্যিই তৃণমূলের ভোট ব্যাংক বাড়িয়ে দেবে, নাকি মমতার এই পাল্টা আক্রমণ ভোটারদের মনে নতুন করে ভাবাবে? নজর রাখুন আমাদের পরবর্তী আপডেটে।





