আসন্ন নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে গিয়ে বামফ্রন্টের অন্দরে ফাটল কি আরও চওড়া হচ্ছে? দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। ফরওয়ার্ড ব্লকের অনুপস্থিতিতেই বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে আরও ৩২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। শরিকি দ্বন্দ্ব যে এখন চরমে, তা ফ্রন্টের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট।
দ্বন্দ্বের মূলে আসন সমঝোতা? বামেদের দ্বিতীয় তালিকায় ৩২ জন প্রার্থীর নাম থাকলেও, সেখানে ফরওয়ার্ড ব্লকের কোনো প্রতিনিধির নাম না থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু আসন নিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লকের সাথে সিপিআইএম-এর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো কিছু আসনে প্রার্থী পদ বজায় রাখা নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। এই টানাপোড়েনের মাঝেই তড়িঘড়ি তালিকা প্রকাশ করে বামফ্রন্ট নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা আর সময় নষ্ট করতে রাজি নয়।
মহম্মদ সেলিমের কৌশলী মন্তব্য: প্রার্থী তালিকা নিয়ে দ্বন্দ্বের খবর প্রকাশ্যে আসতেই মুখ খুলেছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এদিন তিনি বলেন, “প্রার্থী তালিকা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। বামফ্রন্ট একটি বড় পরিবার, সেখানে আলোচনা চলবেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে।” সেলিমের এই মন্তব্যে যেমন আশ্বাসের সুর রয়েছে, তেমনই ‘সব স্পষ্ট হবে’ বলে তিনি যে রহস্য জিইয়ে রাখলেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিরোধীরা অবশ্য কটাক্ষ করে বলছেন, বামেদের পায়ের তলার মাটি সরেছে বলেই এখন নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কামড়াকামড়ি চলছে।
লড়াইয়ের ময়দানে নতুন মুখ: এদিনের ৩২ জনের তালিকায় দেখা গেছে তরুণ এবং নতুন মুখের আধিক্য। একদিকে যখন শরিকি কোন্দল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ফ্রন্ট, অন্যদিকে তখন মানুষের কাছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে মরিয়া তারা। তবে ফরওয়ার্ড ব্লকের মতো গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল শেষ পর্যন্ত এই জোটের অংশ থাকে কি না, নাকি তারা এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার।