পশ্চিম এশিয়ার আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। দীর্ঘ টালবাহানা আর জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোজতবা খামেনেই। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম ভাষণেই শান্তির পরিবর্তে ঝরে পড়ল যুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ। প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইর হত্যাকাণ্ডের ঠিক ১৩ দিনের মাথায় মোজতবা সাফ জানিয়ে দিলেন, “বাবার রক্তের প্রতিটি ফোঁটার বদলা নেবে ইরান। এই যুদ্ধ থামবে না, বরং আরও তীব্র হবে।”
মোজতবা খামেনেইর এই ভাষণ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যকার সরাসরি সংঘাত আজ ১৩ দিনে পা দিল। আল জাজিরা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্র অনুযায়ী, মোজতবা তাঁর বক্তৃতায় ইজরায়েলকে একটি ‘ক্যানসার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং প্রতিজ্ঞা করেছেন যে রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) এবার সরাসরি তেল আভিভের হৃদপিণ্ডে আঘাত হানবে। তিনি বলেন, “শত্রুরা ভেবেছিল খামেনেইকে সরিয়ে দিলেই প্রতিরোধ ভেঙে পড়বে, কিন্তু তারা জানে না প্রতিটি ইরানি এখন এক একটি জীবন্ত বোমা।”
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মোজতবা খামেনেই তাঁর বাবার তুলনায় অনেক বেশি কট্টরপন্থী এবং সামরিক কৌশলে দক্ষ। তাঁর এই প্রথম ভাষণটি মূলত হিজবুল্লাহ, হামাস এবং হুথি বিদ্রোহীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি কৌশল। পশ্চিমী শক্তিগুলো যখন সংঘাত থামানোর চেষ্টা করছে, তখন ইরানের নতুন নেতার এই ‘যুদ্ধ জিইয়ে রাখার’ বার্তা কার্যত আগুনের ওপর ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন এবং তেল আভিভ মোজতবার এই সরাসরি হুমকির মোকাবিলা কীভাবে করে।