‘বাবরি’ শিলান্যাসে মাথায় ইট নিয়ে হাজির আম জনতা!’- আবেগ ও রাজনীতির মিশেলে উত্তাল বেলডাঙা।

শনিবার রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক নজর এখন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। তৃণমূল থেকে সদ্য সাসপেন্ড হওয়া ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর যে বিপুল জনসমাগমের দাবি করেছিলেন, সকাল থেকেই তার প্রতিফলন মিলল মরাদিঘি মোড়ের মাঠে। রাতভর প্রস্তুতির পর ভোর হতেই শুরু হয় মানুষের ঢল।

বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই জনস্রোতে কোনো দলীয় পতাকা বা রাজনৈতিক স্লোগানের ঝড় দেখা যায়নি। সন্দেশখালি, ক্যানিং, ভাঙড়, দেগঙ্গা, সুন্দরবন ও ইটাহার—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা নিজেদের মতো করেই বেলডাঙায় পৌঁছাচ্ছেন। তাদের সকলের বক্তব্য একই: “রাজনীতি নয়, মসজিদের জন্যই এসেছি।” অনেকেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে কিছু রাজনৈতিক কর্মী স্বীকার করেছেন, আজ তাঁরা এসেছেন “শুধু মুসলিম পরিচয়ে, আবেগের টানে।”

ইট-সিমেন্ট নিয়ে মিছিল:

সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো দৃশ্য হলো, হাজার হাজার মানুষের হাতে ও মাথায় ইট এবং অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী। যাদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা ছোট ট্রাক বা গাড়ি ভর্তি ইট নিয়ে এসেছেন। আর যারা আর্থিক দিক থেকে দুর্বল, তাঁরাও ২-৩টি ইট মাথায় বা হাতে বহন করে হাজির হয়েছেন। তাদের একটাই অভিলাষ—তাদের দেওয়া ইটেই যেন গাঁথা হয় বেলডাঙার এই ‘বাবরি মসজিদ’। বিজেপির তরফে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে বহু মানুষকে নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে। তবে সেই ভিডিওর সত্যতা Tips24.in যাচাই করেনি।

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক:

বারো নম্বর জাতীয় সড়কের একেবারে ধারে তৈরি হচ্ছে মসজিদের নির্মাণস্থল। জনসমাগম দ্রুত বাড়তে থাকায় জাতীয় সড়কে যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সূত্রের খবর, শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ধর্মীয় বক্তৃতার জন্য দুটি আলাদা মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন মনে করছে, আগামী ঘণ্টাগুলিতে এই আবেগপ্রবণ ভিড় আরও বাড়বে।

(বিঃদ্রঃ খবরে ব্যবহৃত ছবিটি প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে)

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy