ভারতের ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও সুসংহত করল এথার এনার্জি (Ather Energy)। সম্প্রতি সংস্থাটি এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে— তাদের মোট বিক্রির সংখ্যা ৬ লক্ষ ইউনিট ছাড়িয়ে গিয়েছে। সরকারি তথ্য প্ল্যাটফর্ম ‘বাহন’ পোর্টালের লেটেস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, এথার এখন পর্যন্ত মোট ৬০৪,৯৯৭ ইউনিট স্কুটার বিক্রি করে দেশের সেরা তিনটি ইলেকট্রিক টু-হুইলার প্রস্তুতকারক সংস্থার তালিকায় পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিয়েছে।
মন্থর শুরু থেকে আকাশছোঁয়া সাফল্য:
২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এথারের যাত্রাপথ কিছুটা মন্থর ছিল, বিশেষ করে করোনা মহামারীর কারণে চাহিদায় ভাটা পড়েছিল। তবে ২০২২ সাল থেকে শুরু হয় আসল চমক। সেই বছর ৫১,৮১১ ইউনিট বিক্রির পর ২০২৩ সালে তা একলাফে ১,২৬,০০০ ইউনিটে পৌঁছায়। ২০২৫ সালে সংস্থাটি ২,০১,১২৯ ইউনিট বিক্রি করে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ৫৯% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। ২০২৬ সালের শুরুটাও হয়েছে রাজকীয়ভাবে; মাত্র চার মাসেরও কম সময়ে (১ জানুয়ারি থেকে ২২ এপ্রিল) সংস্থাটি ৯৯,১৫৯ ইউনিট বিক্রি করে নিজেদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রমাণ দিয়েছে।
তুরুপের তাস ‘রিজটা’ ও আকর্ষণীয় BaaS মডেল:
এথারের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল ‘এথার রিজটা’ (Ather Rizta)। কোম্পানির মোট বিক্রির প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশই আসে এই একটি স্কুটার থেকে। টিভিএস আইকিউব এবং বাজাজ চেতকের মতো হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বীদের রুখতে রিজটা-র ‘ব্যাটারি-অ্যাজ-এ-সার্ভিস’ (BaaS) মডেলটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করেছে। যেখানে স্কুটারটির সাধারণ এক্স-শোরুম দাম ১.১৬ লক্ষ টাকা, সেখানে BaaS মডেলের সুবিধা নিলে গ্রাহকরা মাত্র ৭৬,০০০ টাকার প্রাথমিক মূল্যে এটি ঘরে তুলতে পারছেন।
উৎপাদন ও নেটওয়ার্কের ব্যাপক বিস্তার:
চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে এথার দ্রুত তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। বার্ষিক ৪.২ লক্ষ ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে ১৪.২ লক্ষ ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। হোসুরের দুটি প্ল্যান্টের পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে তৃতীয় একটি বিশাল প্ল্যান্ট তৈরি হচ্ছে, যা ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধেই চালু হবে। এছাড়া সারা দেশে ৭০০-র বেশি টাচপয়েন্ট এবং ৫০০-র বেশি এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের মাধ্যমে এথার এখন ভারতের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।





