১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চালানো অকথ্য অত্যাচার এবং পদ্ধতিগত নিধনযজ্ঞকে এবার ‘গণহত্যা’ বা ‘জেনোসাইড’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জোরালো দাবি উঠল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায়। ওহাইয়ো থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য রো খান্না এবং চাবট শুক্রবার মার্কিন সংসদের নিম্নকক্ষ অর্থাৎ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে এই সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেছেন। এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু: মার্কিন আইনপ্রণেতাদের পেশ করা এই প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের মদতপুষ্ট রাজাকার বাহিনী সুপরিকল্পিতভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছিল। লাখে লাখে মানুষকে হত্যা, লক্ষাধিক মহিলার ওপর যৌন নির্যাতন এবং কোটি কোটি মানুষকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার যে কালো অধ্যায় ইতিহাসে চাপা পড়ে ছিল, তাকেই এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে তিনি পাকিস্তান সরকারের কাছে এই গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান।
কেন এই দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভারত এবং বাংলাদেশের গবেষকরা দাবি করে আসছেন যে, ১৯৭১-এর ঘটনাটি শুধুমাত্র যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের ওপর চালানো জাতিগত নিধন। মার্কিন সংসদে এই প্রস্তাব পাস হলে তা বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের ওপর হওয়া ঐতিহাসিক অবিচারের একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষ করে ওহাইয়োর ডেমোক্র্যাট সদস্যের এই উদ্যোগ জো বাইডেন প্রশাসনের বিদেশ নীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিতে পারে।
পাকিস্তানের অস্বস্তি: এই প্রস্তাব পেশ হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও, মার্কিন সংসদে এই প্রস্তাব গৃহীত হলে পাকিস্তানকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে। মানবাধিকার রক্ষা এবং অতীতের ভুল স্বীকারের প্রশ্নে হোয়াইট হাউস এবার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব।