বাংলার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা, কর্নাটকে এসআইআর-এর বিরোধিতায় সুর চড়ালেন আইনমন্ত্রী এইচ কে পাতিল!

আগামী জুন মাসে শুরু হতে চলা নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়টিই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কর্নাটক সরকার এসআইআর-এর ফলে ভোটারদের ভোটাধিকার হ্রাসের আশঙ্কায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন।

কর্নাটকের আইন ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী এইচ কে পাতিল সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা রাজ্য সরকারকে সতর্ক করেছে। এইচ কে পাতিলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে ২৭ লক্ষ মানুষ উপযুক্ত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কর্নাটক সরকার চাইছে না তাদের রাজ্যে এমন কোনো অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটুক। রাজ্য সরকার বর্তমানে বিশেষজ্ঞ আইনজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করার কথা ভাবছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, কর্নাটকে আগামী ২০ থেকে ২৯ জুনের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির কাজ চলবে। এরপর ৩০ জুন থেকে বুথ-স্তরের আধিকারিকরা (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন। রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ‘আইনি রক্ষাকবচ’ নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে। সরকার চায়, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা যেন সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

প্রসঙ্গত, কর্নাটকে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আপাতত রাজ্য সরকার নির্বাচন কমিশনের সাথে যোগাযোগ করার পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের জন্য কোমর বাঁধছে। ৫ অগস্ট কর্নাটকের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও, এই আইনি লড়াইয়ের ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy