বাংলায় মাছ-মাংস নিষিদ্ধ করবে বিজেপি? ভোটের মুখে মমতার ডিগবাজি নাকি বড়সড় আশঙ্কার ইঙ্গিত!

লোকসভা ভোটের দামামা বাজতেই ফের একবার বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। এবার সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে মাছ-মাংস নিষিদ্ধ করার আশঙ্কার কথা শুনিয়ে ভোটারদের সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিজেপি যদি এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসে, তবে বাঙালির চিরপরিচিত ‘মাছ-ভাত’ খাওয়ার সংস্কৃতিও বিপন্ন হতে পারে।

এদিন এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা (বিজেপি) মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চায়। কে কী খাবে, কে কী পরবে, সেটা ওরাই ঠিক করে দিতে চায়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ রাজ্যেও মাছ-মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। ওরা শুধু নিরামিষ সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে চায়।” মমতার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর ভারতে বিজেপির ‘ভেজিটেরিয়ান’ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করে বাংলার মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগে সুড়সুড়ি দিতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী। বিশেষ করে বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ মাছ ও মাংসের ওপর কোনোভাবে আঘাত আসতে পারে—এমন ভয় দেখিয়ে ভোটারদের নিজেদের দিকে টানাই তাঁর লক্ষ্য।

অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। উল্টে মমতার বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছে তারা। কিন্তু ভোটের আগে ‘মাছ-মাংস’ ইস্যু যে নতুন এক মেরুকরণের রাস্তা খুলে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, বাঙালির হেঁশেল নিয়ে এই তরজা নির্বাচনী বাক্সে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy