টানটান উত্তেজনা, বিক্ষিপ্ত অশান্তি আর ভাঙচুরের ছবি—সব কিছুকে ছাপিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হলেন বাংলার মানুষ। বুধবার দ্বিতীয় দফার শেষে রাজ্যে ভোট পড়েছে প্রায় ৯১.৬৬ শতাংশ। যা ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এক অভাবনীয় নজির।
১. পরিসংখ্যানের রেকর্ড:
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানে সর্বোচ্চ ৯৩ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে।
হুগলি, নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় ৯০ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে ভোটদানের হার।
হেভিওয়েট কেন্দ্র ভবানীপুরেও সাধারণ মানুষের ঢল ছিল দেখার মতো।
২. ‘খেলা শেষ’ বনাম ‘খেলা হবে’:
এই বিপুল ভোটদানকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ—সকলের গলাতেই শোনা গিয়েছে আত্মবিশ্বাসের সুর।
“প্রথম দুই দফার ভোটদানের হার বুঝিয়ে দিচ্ছে বাংলায় ‘খেলা শেষ’। ৪ মে ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাবে।” — বিজেপি নেতৃত্বের এই হুঙ্কারে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহিরাগত পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলেও জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত। তাঁর কথায়, “মানুষ দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করেছেন, জয় আমাদেরই হবে।”
৩. অশান্তির কালো ছায়া:
ভোটের হার যেমন রেকর্ড গড়েছে, তেমনই দিনভর উত্তপ্ত ছিল ময়দান।
চাপড়ায় বিজেপি এজেন্টের ওপর হামলা ও মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শান্তিপুরে গেরুয়া শিবিরের ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে।
ভাঙড় ও ফালতায় আইএসএফ (ISF) এজেন্টদের বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়।
এক নজরে দ্বিতীয় দফার খতিয়ান:
| জেলা/বিষয় | ভোটদানের আনুমানিক হার (%) |
| পূর্ব বর্ধমান | ৯৩.৪৮% |
| হুগলি | ৯১.৫০% |
| উত্তর ২৪ পরগনা | ৯১.৭০% |
| নদীয়া | ৯১.৪৫% |
| মোট গড় (Phase 2) | ৯১.৬৬% |





