বাংলায় কি এবার ‘মদ ব্যান’? বিজেপি সরকার গড়তেই সুরাপ্রেমীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ! বিরাট তথ্য ফাঁস

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। ক্ষমতা দখলের পর থেকেই রাজ্যে একাধিক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় যে প্রশ্নটি সুরাপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো— বিজেপি কি এবার বিহার বা গুজরাটের মতো পশ্চিমবঙ্গকেও ‘ড্রাই স্টেট’ (Dry State) বা মদমুক্ত রাজ্য ঘোষণা করবে?

জল্পনার সূত্রপাত কোথায়? বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর মধ্যে গুজরাটে আগে থেকেই মদ নিষিদ্ধ। পাশের রাজ্য বিহারেও নীতিশ কুমারের জমানায় মদ ব্যান করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা বাংলায় নারী সুরক্ষা এবং সামাজিক অবক্ষয় রুখতে মদ্যপানের কুপ্রভাব নিয়ে সরব হয়েছিলেন। সেই থেকেই জল্পনা ছড়ায় যে, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে রাজ্যে মদের দোকানগুলোতে তালা পড়তে পারে।

আসল তথ্য কী বলছে? রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের খবর অনুযায়ী, রাতারাতি রাজ্যে সম্পূর্ণ মদ নিষিদ্ধ করার কোনও পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। এর প্রধান কারণ হলো রাজ্যের কোষাগার। আবগারি দপ্তর বা লিকার ট্যাক্স থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আয়ের একটি বিশাল অংশ আসে। ডিএ (DA) মেটানো এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য এই মুহূর্তে বড় অংকের রাজস্বের প্রয়োজন। তাই হুট করে মদ বন্ধ করে আর্থিক ঝুঁকি নিতে চাইবে না নতুন সরকার।

কড়া হতে পারে নিয়ম সম্পূর্ণ ব্যান না করলেও, আবগারি নীতিতে বড়সড় রদবদল আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে:

  • বেআইনি মদের কারবার: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গজিয়ে ওঠা চোলাই মদের ঠেক এবং বেআইনি মদের কারবার রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে পারে সরকার।

  • দোকানের অবস্থান: স্কুল, কলেজ বা ধর্মীয় স্থানের কাছাকাছি থাকা মদের দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আসতে পারে।

  • লাইসেন্স রিনিউয়াল: নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ি করা হতে পারে।

বিরোধী ও সামাজিক মহলের প্রতিক্রিয়া রাজ্যের নারী ও সমাজকর্মী মহলের একাংশ মদ নিষিদ্ধ করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেও, অর্থনীতিবিদদের মতে এটি কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ মনে করছেন, সরাসরি ব্যান না করে মদ্যপানের ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোই হবে সরকারের লক্ষ্য।

সুতরাং, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই সুরাপ্রেমীদের। তবে বাংলায় ‘সুরা-নীতি’ যে আগের মতো আলগা থাকবে না এবং প্রশাসনের নজরদারি যে বহুগুণ বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy