দীর্ঘ ১৮ মাসের প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা ও অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো বাংলাদেশে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ পরবর্তী এই প্রথম কোনো নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণ করল।
শপথ অনুষ্ঠানের হাইলাইটস:
-
ঐতিহ্য ভাঙা আয়োজন: প্রথা ভেঙে এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবনের খোলা আকাশের নিচে এই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
-
উপস্থিতি: অনুষ্ঠানে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
-
ভারতের প্রতিনিধিত্ব: ভারতের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যা দিল্লির পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী? তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণের পর সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো— নয়া দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের সমীকরণ কী হবে? বিশ্লেষকদের মতে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘রিসেট’ বা নতুন শুরুর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে: ১. মোদীর অভিনন্দন: নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। ২. ব্যালেন্সড ফরেন পলিসি: বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের নীতি হবে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা ‘Bangladesh Before All’ এবং পারস্পরিক মর্যাদাকে গুরুত্ব দেবে। ৩. নিরাপত্তা ও বাণিজ্য: দিল্লি আশা করছে, তারেক রহমানের সরকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে দেবে না। অন্যদিকে, বাংলাদেশ তিস্তা জলবণ্টন ও সীমান্ত হত্যার মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোতে দিল্লির সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে।
চ্যালেঞ্জের পাহাড়: তারেক রহমানের সামনে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণ প্রজন্মের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণ করা। তবে ওম বিড়লার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদী যে তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তা দুই দেশের শীতল সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রথম ধাপ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।