২০২৬-এর বঙ্গ জয়ে এবার আর কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না বিজেপি। দিল্লি থেকে সরাসরি রণকৌশল তৈরি করে বাংলায় ঝাঁপাতে চলেছে গেরুয়া শিবির। লক্ষ্য একটাই— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গে আঘাত হানা। আর সেই লক্ষ্যে প্রচারের ঝড়ে প্রতিপক্ষকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিতে একঝাঁক হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতাকে ময়দানে নামাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
শাহ-এর লক্ষ্য ‘৩০’, মোদি-যোগী ১১!
বিজেপি সূত্রে খবর, বাংলায় প্রচারের মূল কান্ডারি হিসেবে দেখা যাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। একাই ৩০টিরও বেশি জনসভা ও রোড-শো করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দু’জনেই অন্তত ১১টি করে মেগা র্যালি করবেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রচারের তালিকায় আর কোন কোন হেভিওয়েট?
রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব যে তালিকা দিল্লির কাছে পাঠিয়েছে, তাতে ঠাঁই পেয়েছেন একাধিক দাপুটে নেতা:
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা: ঝোড়ো বক্তৃতা ও হিন্দুত্ব কার্ডে ভোটারদের টানতে তাঁর চাহিদাও তুঙ্গে।
স্মৃতি ইরানি ও মিঠুন চক্রবর্তী: বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হিসেবে এঁদেরও বড় বড় জনসভায় দেখা যাবে।
জে পি নাড্ডা ও রাজনাথ সিং: সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষায় এই দুই নেতার প্রচারকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কেন এত তোড়জোড়?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে ‘আবকি বার ২০০ পার’ স্লোগান দিয়েও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বিজেপি। এবার তাই শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে মরিয়া শাহ-জে পি নাড্ডারা। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের গড় ধরে রাখার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে থাবা বসানোই এখন তাঁদের মূল ফোকাস।
তৃণমূলের পাল্টা কৌশল
বিজেপির এই ‘দিল্লি এক্সপ্রেস’ বাহিনীকে রুখতে ঘাসফুল শিবিরও তৈরি। তৃণমূলের দাবি, বহিরাগত নেতারা এসে বাংলায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পই তাঁদের আসল হাতিয়ার।
আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রচারের এই হাইভোল্টেজ লড়াই বাংলার রাজনীতিতে কী নতুন মোড় আনে, এখন সেটাই দেখার।





