বাঁকুড়া থেকে মোদী সরকারকে হুঁশিয়ারি! তফসিলিদের ওপর হামলা ও মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতে রণংদেহি অভিষেক

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীতে এক বিশাল জনসভা থেকে বিজেপি চালিত কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর নিশানায় ছিল মূলত দুটি বিষয়— সারা দেশে তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের ওপর ক্রমবর্ধমান অত্যাচার এবং বাজারদরের আকাশছোঁয়া উর্ধ্বগতি।

বিজেপিকে শানিত আক্রমণ: সোনামুখীর জনজোয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে দলিত এবং আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা সীমা ছাড়িয়েছে। তিনি বলেন:

  • “বিজেপি মুখে বড় বড় কথা বললেও কাজে তফসিলি বিরোধী। উত্তরপ্রদেশ থেকে মধ্যপ্রদেশ— সর্বত্র প্রান্তিক মানুষের ওপর আক্রমণ হচ্ছে।”

  • বাংলার তফসিলিদের বঞ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার ফাণ্ড আটকে রেখেছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তোপ: সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়া নিয়ে অভিষেক সরাসরি কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। আলু, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে ভোজ্য তেল ও রান্নার গ্যাসের দাম কেন কমছে না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “দেশবাসী যখন না খেয়ে মরছে, তখন বিজেপি ব্যস্ত বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে। মানুষের হেঁশেলে আগুন লেগেছে, আর দিল্লির সরকার ঘুমোচ্ছে।”

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও উন্নয়নের খতিয়ান: কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি পালটা রাজ্য সরকারের সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, মোদী সরকার যেখানে টাকা কেড়ে নিচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন।

বাঁকুড়ার মাটি ও ভোটব্যাঙ্ক: রাজনৈতিক মহলের মতে, বাঁকুড়া একসময় বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হয়ে উঠলেও ২০২৬-এর আগে সেই জমি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া তৃণমূল। আর সেই লক্ষ্যেই আজ সোনামুখী থেকে তফসিলি ভোটব্যাঙ্ক সংহত করতে এবং নিম্নবিত্ত মানুষের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে সুর চড়ালেন অভিষেক।

এদিনের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছেন যে, লড়াই হবে দিল্লির বঞ্চনা বনাম বাংলার উন্নয়নের। এখন দেখার, জঙ্গলমহলের মানুষ তৃণমূলের এই ‘জনগর্জন’-এ কতটা সাড়া দেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy