বর্ষা মানেই উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি পথে ট্রেন চলাচলে আতঙ্ক। প্রতি বছর ভারী বৃষ্টি আর ধসের জেরে বিঘ্নিত হয় রেল পরিষেবা। তবে ২০২৬-এর বর্ষায় যাত্রীদের দুশ্চিন্তা কমাতে কোমর বেঁধে মাঠে নামল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (NFR)। সুরক্ষিত ও বাধাহীন ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ অত্যাধুনিক এবং কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
পাহাড়ি পথে ‘ডিজিটাল’ নজরদারি: বর্ষার ঝুঁকি মোকাবিলায় এবার প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকার ধসপ্রবণ এবং বন্যা-সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে বসানো হয়েছে বিশেষ ‘ওয়াটার লেভেল গেজ’। এর মাধ্যমে নদীর জলের স্তর বাড়লে বা লাইনে বিপদ দেখা দিলে রিয়েল-টাইমে কন্ট্রোল রুমে খবর পৌঁছে যাবে। এছাড়া, অতি-ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থায়ী প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে, যারা ২৪ ঘণ্টা লাইনের অবস্থার ওপর নজর রাখবেন।
প্রস্তুত ‘ইমার্জেন্সি অন হুইলস’: যেকোনো বড়সড় দুর্ঘটনা বা ধস নামলে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করতে রেল তৈরি রেখেছে ‘ইমার্জেন্সি অন হুইলস’ ট্রেন। এই বিশেষ ট্রেনগুলিতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, পাথর ও বালির বস্তা মজুত থাকবে। সঙ্গে থাকবে প্রশিক্ষিত কারিগরি দল এবং ‘র্যাপিড রেসপন্স টিম’, যারা খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করবে।
বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী মজুত: রেলসূত্রে খবর, পাহাড়ের বিভিন্ন ডিভিশনে ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ মেরামতির সরঞ্জাম মজুত করা হয়েছে।
লামডিং ডিভিশন: প্রায় ১২,০০০ ঘনমিটার বোল্ডার এবং ৪০,০০০ সিমেন্টের বস্তা।
আলিপুরদুয়ার ডিভিশন: ২০,০০০ ঘনমিটারের বেশি বোল্ডার।
কাটিহার ও রঙিয়া ডিভিশন: কয়েক হাজার টন বালি, পাথর ও কোয়ারি ডাস্ট মজুত রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয়: ট্রেনের গতিবিধি ও কর্মীদের ডিউটি ঠিক করতে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (IMD) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে রেলের কন্ট্রোল রুম। আবহাওয়া খারাপ হওয়ার পূর্বাভাস পেলেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





