বন্ধ হচ্ছে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-কন্যাশ্রী! ১৫ ও ৩০ বছরের পুরনো প্রকল্প নিয়ে বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল হলেও আমজনতার জন্য চালু থাকা জনমুখী প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ কী? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের কোণায় কোণায়। সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগের সরকারের কোনো জনপ্রিয় প্রকল্পই বন্ধ করা হচ্ছে না। বরং ১৫ বা ৩০ বছর আগে চালু হওয়া সমস্ত সামাজিক প্রকল্পই রাজ্যে বহাল থাকবে।

প্রকল্পে বড় বদল ও স্বচ্ছতা:
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পূর্বতন সরকারের আমলে চালু হওয়া সমস্ত জনমুখী প্রকল্প চলবে। তবে সেগুলোতে স্বচ্ছতা আনা হবে।” তিনি সাফ জানান যে, সরকারি খাতা থেকে ভুয়ো উপভোক্তাদের নাম ছাঁটাই করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কোনো মৃত ব্যক্তি যাতে প্রকল্পের সুবিধা না পায় এবং কোনো অনুপ্রবেশকারী যাতে এই সুবিধার অপব্যবহার করতে না পারে, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে।” এই লক্ষ্যেই সমস্ত প্রকল্পের ডেটাবেস সরকারি পোর্টালে আপডেট করা হবে বলে জানান তিনি।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের সবথেকে আলোচিত প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে সাধারণ মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। শুভেন্দু অধিকারীর এদিনের বক্তব্যের পর স্পষ্ট যে, এই সুবিধা বন্ধ হচ্ছে না। তবে নজর এখন বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর দিকে। যেখানে মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। যদিও মুখ্যমন্ত্রী এদিন নির্দিষ্ট কোনো অঙ্কের কথা বলেননি, তবে সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি পালনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

নতুন প্রকল্পের সংযোজন ও নিয়োগ:
এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, এবার থেকে রাজ্যের নাগরিকরা কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর সুবিধা পাবেন। এর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা বলেন তিনি। রাজ্যের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, তাঁর সরকার স্বচ্ছ নিয়োগের ওপর সবথেকে বেশি জোর দেবে। দীর্ঘদিনের থমকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করাই এখন নতুন মন্ত্রিসভার প্রধান লক্ষ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy