টলিউড এবং রাজ্য রাজনীতির করিডোরে এখন চর্চার কেন্দ্রে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘ নয় বছর ধরে রাজ্য মহিলা কমিশনের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পর, অবশেষে সেই পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে তাঁর এই পদত্যাগ ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ইস্তফার পেছনে শুধু রাজনীতির হাওয়া বদল নয়, বরং রয়েছে টলিপাড়ার এক মর্মান্তিক ঘটনা।
কিছুদিন আগেই তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শ্যুটিং চলাকালীন টলিউড অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু ঘটে। এই মৃত্যুকে ঘিরে দানা বেঁধেছে একাধিক রহস্য। পুলিশের তদন্তে আসা ফুটেজ এবং ইউনিটের সদস্যদের বয়ানের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার পর থেকেই কাঠগড়ায় উঠেছে জনপ্রিয় প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’। আর সেই সময় থেকেই শোনা যাচ্ছিল, নৈতিক চাপে পড়ে মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে সরতে পারেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো।
লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের কর্মজীবন বরাবরই বেশ বর্ণময়। একদিকে যেমন রাজ্যের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন, তেমনই অন্যদিকে হিন্দি ও বাংলা বিনোদন জগতে তাঁর সৃজনশীলতার ছাপ অনস্বীকার্য। ‘ঝনক’, ‘তারা’, ‘রিস্তো মঞ্ঝা’-র মতো একের পর এক সুপারহিট ধারাবাহিকের হাত ধরে তিনি ঘরে ঘরে জনপ্রিয় হয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, ‘তারা’ ধারাবাহিকের দ্বিতীয় সিজন নিয়ে তিনি কাজ শুরু করতে চলেছেন। কিন্তু এর মধ্যেই সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ এক বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
সংস্থার দাবি, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে মিডিয়া এবং জনসাধারণের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, লীনা ২০১০ সাল থেকে সংস্থার সঙ্গে লেখক এবং সৃজনশীল প্রধান হিসেবে যুক্ত আছেন। ২০১১ সালে তিনি বোর্ডে যোগ দিলেও, তিনি কোনোদিনই সংস্থার প্রমোটার বা অপারেশনাল এক্সিকিউটিভ পদে ছিলেন না। তাঁর কাজের পরিধি শুধুমাত্র সৃজনশীল তদারকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বিবৃতিতে সংস্থার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির সাথে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের কাজের যোগসূত্র খোঁজার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা অনভিপ্রেত।
এদিকে, মহিলা কমিশনের সভাপতির পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোকে ঘিরে বিরোধী মহলও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত রহস্য এবং তার জেরে সংস্থার ওপর আসা চাপ—সব মিলিয়ে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। এখন দেখার বিষয়, কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে তিনি আগামী দিনে আবারও সম্পূর্ণভাবে পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন কি না। টলিপাড়ার অন্দরে এখন কান পাতলে একটাই প্রশ্ন, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই পদত্যাগ কি কেবলই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি পরিস্থিতির চাপে এক অনিবার্য পরিণতি? বিনোদন জগতের এই হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই এখন রাজ্য জুড়ে চলছে জোর চর্চা।





