আগামী নির্বাচনের রণকৌশল এবং সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বড়সড় প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি জুডিশিয়াল অফিসার বা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গে কমিশনের প্রতিনিধিদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী বিধিভঙ্গ রুখতে আইনি প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এবং স্বচ্ছ করা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্তরের একাধিক বিচারক ও আইনি বিশেষজ্ঞরা।
এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় খবর হলো, নির্বাচন কমিশন একটি অত্যাধুনিক ‘ডিজিটাল পোর্টাল’ তৈরির কাজ শুরু করেছে। সূত্রের খবর, এই পোর্টালটি বিশেষভাবে জুডিশিয়াল অফিসার এবং কমিশনের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে নির্বাচনী অশান্তি, আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন বা কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হলে, তার তথ্য দ্রুত আপলোড করা যাবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিচারবিভাগীয় নির্দেশিকা পাওয়া সম্ভব হবে। অর্থাৎ, দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, পোর্টালটি তৈরি হয়ে গেলে নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসনের কাজের চাপ অনেকটাই কমবে। কোনো অভিযোগ জমা পড়লে তার স্ট্যাটাস রিয়েল টাইমে ট্র্যাক করা যাবে। এছাড়াও, ভোট কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং আইনি পরামর্শ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও এই ডিজিটাল মাধ্যম বিপ্লব ঘটাতে পারে। আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই এই পোর্টালটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের এই ‘ডিজিটাল দাওয়াই’ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।