বড় ধাক্কা নাসার! আর্টেমিস II অভিযান থমকে গেল, চাঁদে মানব মিশন কি পিছিয়ে যাবে?

মহাকাশ গবেষণার জগতে ফের এক বড় খবর। চাঁদে মানুষ পাঠানোর নাসার উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিযান ‘আর্টেমিস II’ আকস্মিকভাবে থমকে গেছে। ২০২৫ সালে নির্ধারিত এই ঐতিহাসিক অভিযানকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ২০২৬ সাল পর্যন্ত। এই আকস্মিক স্থগিতাদেশ মহাকাশ বিজ্ঞানী এবং মহাকাশপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু কেন এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত? নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাকাশচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মিশনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তির আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আর্টেমিস II মিশন কী? আর্টেমিস II মিশন হলো নাসার ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো চারজন মহাকাশচারীকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠানো, যেখানে তারা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এটি অ্যাপোলো যুগের পর প্রথমবার যখন মানুষ আবার চাঁদের এত কাছাকাছি যাবে। আর্টেমিস III মিশনের আগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ, যেখানে মানুষ সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করবে।

স্থগিতাদেশের মূল কারণ কী? নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস II মিশনে ব্যবহৃত ওরিয়ন ক্যাপসুলের লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম এবং বৈদ্যুতিক সুরক্ষাব্যবস্থায় কিছু সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মহাকাশচারীদের জীবন এবং মিশনের সাফল্য নিশ্চিত করতে এই সমস্যাগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য সমাধান প্রয়োজন। বিশেষ করে, নভোচারীদের জন্য অক্সিজেন, জল এবং তাপমাত্রার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জটিল সিস্টেমগুলি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত না হলে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না নাসা।

এছাড়াও, ফ্যালকন রকেটের ‘এমার্জেন্সি অ্যাবর্ট সিস্টেম’-এর কার্যকারিতা নিয়েও কিছু প্রশ্ন উঠেছে। মহাকাশ যাত্রার সময় যদি কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে এই সিস্টেমটি মহাকাশচারীদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ রাখা নাসার উদ্দেশ্য নয়।

আর্টেমিস III এবং ভবিষ্যতের উপর প্রভাব আর্টেমিস II মিশনের স্থগিতাদেশের ফলে আর্টেমিস III মিশন, যেখানে মানুষ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে, সেটিও পিছিয়ে যাবে। ২০২৫ সালের পরিবর্তে এটি এখন ২০২৯ সালের আগে সম্ভব নয় বলে নাসা জানিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে চাঁদে মানব বসতি স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় এক বড় ধাক্কা।

নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বিল নেলসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা আমাদের মহাকাশচারীদের নিরাপত্তা এবং মিশনের সাফল্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই। এই জটিল প্রযুক্তির পরীক্ষা ও প্রস্তুতিতে আমরা কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাই না।” এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নাসা প্রমাণ করলো যে, মহাকাশ অভিযানে নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হয় না।

তবে, এই স্থগিতাদেশ মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না। নাসা জানিয়েছে, তারা এই সময়টিকে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠবে।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আর্টেমিস II মিশনের এই সাময়িক বিরতি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। তবে, নাসার এই পদক্ষেপ তাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের প্রতি দায়বদ্ধতাকেই তুলে ধরে। চাঁদে মানব বসতি স্থাপন এবং মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যতের অভিযানের জন্য এই প্রতিটি পদক্ষেপই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করা হচ্ছে, এই সাময়িক বিলম্বের পর নাসা আরও শক্তিশালী এবং নিরাপদ প্রযুক্তির সাথে ফিরে আসবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy