বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে আছড়ে পড়ল এক নতুন বিতর্ক। আজ এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপি এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন। মমতার অভিযোগ, বিজেপি গোপনে পশ্চিমবঙ্গকে খণ্ডবিখণ্ড করার নীল নকশা তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গকে রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহারের কিছু অংশ যুক্ত করে একটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বা নতুন রাজ্য গড়ার ‘গভীর চক্রান্ত’ চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমানে রাজ্যে যা চলছে তা আদতে ‘স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’। প্রশাসনিক ও পুলিশ মহলে কমিশনের সাম্প্রতিক বদলি এবং আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করেছেন। মমতার কথায়, “বিজেপি মানুষের রায় পেতে ব্যর্থ হয়ে এখন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে বাংলা দখল করতে চাইছে। ওরা উত্তরবঙ্গকে আলাদা করে বিহারের কিষাণগঞ্জ বা পূর্ণিয়ার মতো এলাকা নিয়ে নতুন গেমপ্ল্যান করছে।”
তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোর সংলগ্ন এলাকায় নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের যে জল্পনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছিল, মমতার আজকের বক্তব্য তাতে আরও ঘি ঢালল। তবে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “রক্ত দিয়ে হলেও আমরা বঙ্গভঙ্গ রুখব। বাংলার এক ইঞ্চি জমিও কাউকে ছাড়ব না।” নির্বাচনের আগে এই ‘আঞ্চলিক অখণ্ডতা’র ইস্যু যে আগামী দিনে ভোটের মেরুকরণে বড় ভূমিকা নেবে, তা স্পষ্ট।