রাজনীতিতে তাঁরা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই মেরুর বাসিন্দা। কিন্তু এসআইআর (SIR) ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল এবার জয় করে নিল ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা মানিক সরকারের মন। যেখানে বাংলার সিপিএম নেতারা মমতার এই পদক্ষেপকে বিদ্রূপ বা নীরবতায় ঢাকতে চেয়েছেন, সেখানে মানিক সরকারের এই প্রকাশ্য প্রশংসা বঙ্গ সিপিএমকে চরম বিড়ম্বনায় ফেলে দিল।
কী বললেন মানিক সরকার? গত বুধবার এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নিজে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং মানুষের হয়রানি নিয়ে তাঁর এই লড়াইকে খাটো করে দেখতে নারাজ মানিকবাবু। তিনি বলেন, “ভালই তো! তিনি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মূল সমস্যাগুলো ৫-৬টি পয়েন্টের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। শ্রীমতী বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুটা দেরি করে ফেলেছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর এই চেষ্টাকে আমি কোনওভাবেই খাটো করে দেখতে চাইছি না।” মানিকবাবুর এই ইতিবাচক মনোভাব কার্যত নজিরবিহীন।
বিড়ম্বনায় আলিমুদ্দিন, আক্রমণাত্মক তৃণমূল রাজ্যে যখন সুজন চক্রবর্তী বা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যরা মমতার এই আইনি লড়াইকে কটাক্ষ করছেন, তখন দলেরই এক শীর্ষ নেতার এই মন্তব্যে অস্বস্তি বেড়েছে সিপিএমের অন্দরে। এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ মানিক সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিঁধেছেন বঙ্গ সিপিএম নেতাদের। তিনি বলেন, “মানিকবাবুর মতো একজন বর্ষীয়ান নেতা যা বুঝতে পারলেন, এ রাজ্যের নেতারা কেন তা পারলেন না? বিকাশবাবুরা মানিকবাবুর থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।”
সোমবার ফের সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি। এখন দেখার, মানিক সরকারের এই মন্তব্য জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী জোটের সমীকরণে নতুন কোনও মাত্রা যোগ করে কি না।