‘বঙ্কিমদা’র পর এবার ‘মাতাগিনি’! ফের বাঙালির আবেগে আঘাত কেন্দ্রের, ২০২৬-এর আগে তুঙ্গে অস্মিতার লড়াই

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব দিয়ে বাজিমাত করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগেও সেই একই স্ট্র্যাটেজিকে হাতিয়ার করে আসরে নামল জোড়াফুল শিবির। এবার ইস্যু— খোদ সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে মহান বিপ্লবিনী মাতঙ্গিনী হাজরার নামের ভুল উচ্চারণ। দিল্লির কর্তব্যপথে বাংলার ট্যাবলো প্রদর্শনীর সময় ধারাভাষ্যকারের উচ্চারণ ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

এদিন দিল্লির কর্তব্যপথে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোর থিম ছিল ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলা ও বাঙালির অবদান’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষুদিরাম বসু এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পাশাপাশি সগৌরবে উপস্থিত ছিল মাতঙ্গিনী হাজরার ছবি। কিন্তু বিপত্তি ঘটল ধারাভাষ্যের সময়। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরার নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে ধারাভাষ্যকার তাঁকে ‘মাতাগিনি হাজরা’ বলে সম্বোধন করেন।

এই মুহূর্তটিকে লুফে নিতে দেরি করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে ওই ভিডিও প্রকাশ করে বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এটি কোনো সাধারণ ভুল বা ‘স্লিপ অফ টাং’ নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত প্যাটার্ন। পোস্টে লেখা হয়েছে, “বাংলার মনীষীদের অপমান করা এবং ইতিহাসকে ধ্বংস করাই কেন্দ্রের লক্ষ্য। যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের নামটুকু সঠিক উচ্চারণের নূন্যতম হোমওয়ার্ক করার সৌজন্য নেই এদের। বাংলাকে বিদ্রূপ করে বাঙালির ঐতিহ্য মুছে ফেলার এক বিকৃত বাসনা চরিতার্থ করা হচ্ছে।”

আসলে সাম্প্রতিককালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বঙ্কিমদা’ বলা কিংবা কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডভিয়ার ‘মোহন বেগান’ এবং ‘ইস্ট বেগান’ উচ্চারণকে ইস্যু করে বাঙালি অস্মিতার হাওয়া তুলতে মরিয়া তৃণমূল। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবিরকে ‘বাঙালি বিদ্বেষী’ হিসেবে প্রমাণ করাই এখন শাসকদলের প্রধান কৌশল। মাতঙ্গিনী হাজরার নামের এই ভুল উচ্চারণ সেই বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy