বকেয়া ডিএ-র তালিকায় কি ‘কাঁচি’? সুপ্রিম রায়ের পরেও কেন চিন্তায় স্কুল-কলেজের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক!

গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশের বাস্তবায়ন নিয়ে রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কয়েক লক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর মধ্যে প্রবল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, রাজ্য সরকার সম্প্রতি আদালতে যে হলফনামা বা সংশোধনী আবেদন জমা দিয়েছে, সেখানে এই বিশাল অংশের উল্লেখ নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।

কেন এই জল্পনা? সাধারণত, সরকারি কর্মচারীদের ডিএ ঘোষণার পর শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে আলাদা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কিন্তু এবারের ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে রাজ্য যে ২১৫ পাতার মডিফিকেশন পিটিশন জমা দিয়েছে, তাতে সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল-কলেজের কর্মীদের নাম বা তাঁদের অর্থ সংস্থানের বিষয়টি কতটা পরিষ্কার, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। অনেক শিক্ষক সংগঠনের দাবি, রাজ্য শুধু ‘সরকারি কর্মচারী’ (State Government Employees) শব্দটি ব্যবহার করে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বঞ্চিত করার রাস্তা খুঁজছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রশাসনের অবস্থান ও আন্দোলনের হুমকি: রাজ্যের অর্থ দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, বকেয়া মেটাতে প্রায় ৪১,০০০ কোটি টাকার প্রয়োজন, যার ২৫ শতাংশ দিতে গেলেও বিপুল আর্থিক চাপ পড়বে। তবে শিক্ষা দপ্তরের কর্মীদের বাদ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি সিলমোহর পড়েনি। এদিকে, ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ এবং বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই ১৩ মার্চ ‘বন্ধ মুবারক’ বা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। তাঁদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী সমস্ত পেনশনার এবং কর্মরত কর্মীদের সমানভাবে বকেয়া মেটাতে হবে। কোনও বৈষম্য করা হলে আইনি পথে বড়সড় লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy