উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ও গাইঘাটা সীমান্তে চাঞ্চল্য। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্বামীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল স্ত্রীর প্রেমিক আনন্দ রায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: বনগাঁর বাসিন্দা চিন্ময় দে-র সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল গাইঘাটা থানার আংরাইল গদাধরপুরের বাসিন্দা অর্পিতা ঘোষের। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অর্পিতা অন্য এক যুবক অর্থাৎ আনন্দ রায়ের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। গত ২০২৫ সালের ৬ জুলাই স্ত্রী অর্পিতাকে তাঁর বাপের বাড়ি থেকে আনতে গিয়েছিলেন চিন্ময়। কিন্তু অভিযোগ, ওই দিনই বিকেল চারটে নাগাদ চিন্ময়ের বাড়ির লোক জানতে পারেন যে, শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি আম বাগানে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন চিন্ময়। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারি: ছেলের এই রহস্যজনক মৃত্যুর পর গত বছরের ১৬ জুলাই চিন্ময়ের মা চায়না দে গাইঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে পুত্রবধূ অর্পিতা ঘোষ, তাঁর বাবা-মা এবং অর্পিতার প্রেমিক আনন্দ রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে গতকাল পুলিশ আনন্দ রায়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আজ ধৃতকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশ বাকি অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।