পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের সাথে সাথে রাজ্যে যাত্রা শুরু করল প্রথম বিজেপি সরকার। তবে এই নতুন মন্ত্রিসভার একটি বিশেষ দিক রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুভেন্দু সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভায় একমাত্র নারী প্রতিনিধি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিमित्रा পাল। ৫১ বছর বয়সী এই নেত্রী এখন বঙ্গ বিজেপির মহিলা শক্তির প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন।
এদিন রাজভবনের অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া ও ক্ষুদিরাম টুডুর মতো বর্ষীয়ান নেতাদের সঙ্গেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন অগ্নিমিত্রা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অগ্নিকন্যার এই পদোন্নতি বিজেপির জন্য অত্যন্ত কৌশলগত এবং তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন বিজেপি কেন্দ্রীয় স্তরে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কথা বলছে, অন্যদিকে তৃণমূলের নারী-কেন্দ্রিক রাজনীতির মোকাবিলায় অগ্নিমিত্রাকে সামনে আনা দলের এক সুচিন্তিত চাল।
অগ্নিমিত্রা পালের এই সফর কিন্তু সচরাচর দেখা রাজনীতির মতো নয়। ২০১৯ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ছিলেন কলকাতার ফ্যাশন জগতের একজন তারকা। নিজের ফ্যাশন লেবেল ‘ইঙ্গা’ (Ingga)-র মাধ্যমে তিনি সাড়া ফেলেছিলেন। শ্রীদেবী থেকে হেমা মালিনী— বলিউডের দিকপাল অভিনেত্রীদের পোশাক ডিজাইন করেছেন তিনি। ল্যাকমে ফ্যাশন উইকের মঞ্চে বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাঁথা স্টিচকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছিলেন এই কৃতি বাঙালি কন্যা।
আসানসোলের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া অগ্নিমিত্রা উদ্ভিদবিদ্যার ছাত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে ফ্যাশন টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেন। রাজনীতিতে প্রবেশ করার পর খুব অল্প সময়েই তিনি নিজেকে একজন লড়াকু নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে আসানসোল দক্ষিণ আসন থেকে তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে তিনি নিজের আধিপত্য প্রমাণ করেছেন। এক সময় তাঁর নাম মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়েও শোনা গিয়েছিল, যা প্রমাণ করে দলের অন্দরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা দৃঢ়। শুভেন্দু মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি আগামী দিনে বাংলার নারী ভোটব্যাংক দখলে গেরুয়া শিবিরের বড় হাতিয়ার হতে চলেছে।





