‘ফোর শক’ নাকি বড় বিপদের সংকেত? সিকিমের ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে দুলল বাংলাও, ঘুম উড়েছে বিশেষজ্ঞদের

উত্তরবঙ্গে ভূমিকম্পের আতঙ্ক যেন কিছুতেই কাটছে না। বৃহস্পতিবার এক ঘণ্টার ব্যবধানে পর পর দু’বার মৃদু কম্পন অনুভূত হল দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকায়। জানা যাচ্ছে, প্রতিবেশি রাজ্য সিকিমে হওয়া ভূমিকম্পের তীব্রতাতেই কেঁপে উঠেছে এ রাজ্যের উত্তরের জেলাগুলো। সিকিমের গেলসিংয়ে বেলা ১১টা ৩৪ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৪.৬ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়, যার পর আরও অন্তত ৫টি আফটারশক হয়েছে বলে খবর।

গত ২০ দিনে সিকিমে ৫০টিরও বেশি ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিশেষত ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৯ বার কেঁপে উঠেছে সিকিম। কখনও রিখটার স্কেলে মাত্রা ৩, কখনও আবার ৪-এর উপরে। এই পরিস্থিতিকে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, এটি ‘ফোর শক’ (Foreshock) হতে পারে। সাধারণত কোনো বড় ভূমিকম্পের আগে এই ধরণের ছোট ছোট কম্পন ঝাঁকে ঝাঁকে বা ‘পঙ্গপালের’ মতো ধেয়ে আসে।

বারবার এই কম্পন পশ্চিমবঙ্গের হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলের জন্য বড় বিপদের সংকেত দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভূ-গর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত নড়াচড়ার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আজ সকালে কম্পন অনুভূত হতেই জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। এখনও পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও, বড়সড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় কাঁপছে পাহাড় ও সমতল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy